
সংক্ষেপে
পাসপোর্ট রিনিউ করতে লাগে অনলাইন আবেদনের সারাংশ (অ্যাপয়েন্টমেন্টসহ), জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন, ফি জমার স্লিপ আর আগের পাসপোর্ট ও তার ডাটা পেজের কপি। ই-পাসপোর্টে রিনিউকে রি-ইস্যু বলা হয়, আর এটা মেয়াদ শেষের আগে বা পরে যেকোনো সময় করা যায়।
মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও কোনো জরিমানা নেই, শুধু সরকারি ফি দিতে হয়। ৪৮ পৃষ্ঠা আর ৫ বছর মেয়াদের সাধারণ ডেলিভারির ফি ৪,০২৫ টাকা। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে ই-পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশনও আর লাগে না।
রিনিউয়ের আবেদন, ফি জমা আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট সবই এই পোর্টাল থেকে হয়।
এই লেখায়
১. পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হলে করণীয়: আগে না পরে রিনিউ
ই-পাসপোর্ট পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে বলা আছে, পাসপোর্ট সাধারণত ৫ বা ১০ বছরের জন্য দেওয়া হয়। আগের পাসপোর্টের নম্বর উল্লেখ করে মেয়াদ শেষের আগে বা পরে, নিজের দরকারমতো রি-ইস্যুর আবেদন করা যায়। মেয়াদ পেরোনোর জন্য আলাদা কোনো ফি নেই, সরকার নির্ধারিত রি-ইস্যু ফি দিলেই হয়।
তাহলে আগে করবেন কেন। কারণ বিদেশে যাওয়ার সময় অনেক দেশ পাসপোর্টে নির্দিষ্ট মেয়াদ বাকি চায়, আর নতুন পাসপোর্ট হাতে আসতেও কিছু দিন লাগে। কত মাস বাকি থাকতে হয়, তা আমাদের পাসপোর্টের মেয়াদ নিয়ে লেখায় আর টুলস পাতার মেয়াদ হিসাবের টুলে মিলিয়ে নিতে পারেন।
- পাতা ভরে গেছে: ভিসা আর সিলের জায়গা না থাকলে মেয়াদ বাকি থাকলেও রি-ইস্যু করতে পারেন। এবার বেশি ভ্রমণ হলে ৬৪ পৃষ্ঠা নেওয়ার কথা ভাবুন।
- তথ্য বদলেছে: পেশা, বৈবাহিক অবস্থা বা ঠিকানা বদলালে নতুন পাসপোর্টে হালনাগাদ তথ্য দিন, প্রমাণ সঙ্গে নিন।
- হারিয়েছে বা নষ্ট হয়েছে: এটা সাধারণ রিনিউ নয়। জিডি আর অনলাইন রিপোর্টসহ আলাদা নিয়ম আছে, আমাদের পাসপোর্ট হারানোর লেখায় দেখুন।
- ১৮ বছর পেরিয়েছেন: শিশু বয়সে ৫ বছরের পাসপোর্ট নিয়ে থাকলে এখন NID দিয়ে রি-ইস্যু করলে ১০ বছরের মেয়াদ বাছাই করা যায়।
MRP-র মেয়াদ বাকি থাকলেও ই-পাসপোর্টের আবেদন করা যায়। তবে নতুন ই-পাসপোর্ট ইস্যু হলে পুরোনো MRP-র বৈধতা সিস্টেম থেকে নিজে নিজেই বাতিল হয়ে যায়, সেটা আর ব্যবহার করা যাবে না।
২. পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি কি কাগজ লাগে
পাসপোর্ট অফিসে যা নিয়ে যাবেন
এই তালিকা ই-পাসপোর্ট পোর্টালের নির্দেশনা থেকে নেওয়া। ছবি নিয়ে যেতে হয় না, অফিসেই ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা হয়, আর কোনো ছবি সত্যায়নও লাগে না। বয়স ২০ বছরের বেশি হলে দেশে আবেদনে NID লাগবে। আগে শিশু অবস্থায় জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট করে থাকলে এবার NID দিয়েই আবেদন করবেন।
পোর্টাল বলছে, আগের পাসপোর্টের তথ্য দেওয়া সবচেয়ে জরুরি এবং বাধ্যতামূলক। এটা না দিলে নতুন পাসপোর্ট দেওয়ার কাজ শেষ হয় না। হাতে লেখা, MRP বা ই-পাসপোর্ট, শেষেরটার নম্বর ঠিকঠাক লিখুন।
৩. পাসপোর্ট রিনিউ করতে কত টাকা লাগে ২০২৬
দেশ থেকে আবেদনে ফি নির্ভর করে পৃষ্ঠা, মেয়াদ আর ডেলিভারির ধরনের ওপর। রি-ইস্যুর ফি নতুন পাসপোর্টের মতোই। ইউএনবি আর ই-পাসপোর্ট পোর্টালের ফির তালিকা অনুযায়ী অঙ্কগুলো এরকম (টাকায়):
| পৃষ্ঠা ও মেয়াদ | রেগুলার | এক্সপ্রেস | সুপার এক্সপ্রেস |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৪,০২৫ | ৬,৩২৫ | ৮,৬২৫ |
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৫,৭৫০ | ৮,০৫০ | ১০,৩৫০ |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৬,৩২৫ | ৮,৬২৫ | ১২,০৭৫ |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৮,০৫০ | ১০,৩৫০ | ১৩,৮০০ |
পোর্টালের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারী ১০ বছরের পাসপোর্ট পান না, তাদের জন্য ৫ বছরের সারি। ফি জমার আগে টুলস পাতার ফি হিসাবের টুলে নিজের অঙ্কটা দেখে নিতে পারেন। কেউ সরকারি ফির বাইরে 'রিনিউ খরচ' চাইলে সেটা সরকারি ফি নয়।
৪. আগের পাসপোর্ট থেকে তথ্য বদলালে বাড়তি কী লাগে
পোর্টালের প্রশ্নোত্তর বলছে, সময়ের সঙ্গে বর্তমান ঠিকানা, পেশা, জরুরি যোগাযোগ বা বৈবাহিক অবস্থা বদলানো স্বাভাবিক। রিনিউয়ের আবেদনে সবচেয়ে হালনাগাদ তথ্য দিন, আর বদলের প্রমাণ সঙ্গে নিন।
| যা বদলেছে | প্রমাণ |
|---|---|
| পেশা | পেশাগত সনদ, ছাত্র হলে স্টুডেন্ট আইডি |
| বৈবাহিক অবস্থা | বিয়ের সনদ বা নিকাহনামা |
| নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান বা বাবা-মায়ের নাম | NID বা জন্ম নিবন্ধন, আগের পাসপোর্ট আর অন্য সরকারি দলিল |
| বর্তমান ঠিকানা | নতুন ঠিকানা আবেদনে লিখুন, সেই ঠিকানার আওতার অফিসে আবেদন করুন |
নাম বা জন্মতারিখের মতো মৌলিক তথ্যে বদল থাকলে এনরোলমেন্টের সময় কাগজ যাচাই হয়, দরকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও গভীর যাচাই হতে পারে। তখন সময় বেশি লাগে। আর NID-তে তথ্য সংশোধন করার পর পাসপোর্টে তা আনতে হলে নতুন NID অনুযায়ী নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে হয়।
৫. রিনিউয়ের ধাপ আর পাসপোর্ট তোলা
- ১অনলাইনে আবেদনই-পাসপোর্ট পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকে নতুন আবেদন শুরু করুন। আগের পাসপোর্ট আছে কি না প্রশ্নে হ্যাঁ দিয়ে তার নম্বর, ইস্যু আর মেয়াদের তারিখ দিন।
- ২ফি আর অ্যাপয়েন্টমেন্টঅনলাইনে বা ব্যাংকে ফি দিন, তারপর পাসপোর্ট অফিসে এনরোলমেন্টের তারিখ বাছুন।
- ৩এনরোলমেন্টকাগজ নিয়ে নির্ধারিত দিনে যান। ছবি, আঙুলের ছাপ আর আইরিস নেওয়া হবে। ডেলিভারি স্লিপ যত্ন করে রাখুন।
- ৪পাসপোর্ট তোলাস্ট্যাটাসে প্রস্তুত দেখালে ডেলিভারি স্লিপ আর আগের পাসপোর্ট নিয়ে অফিসে যান। রি-ইস্যুতে পুরোনো পাসপোর্ট সঙ্গে নিতে হয়।
রি-ইস্যুর সময় আগের পাসপোর্ট অফিসে নিয়ে যেতে হয়। তাতে কোনো দেশের চালু ভিসা বা রেসিডেন্স থাকলে আবেদনের আগে সেই দেশের দূতাবাস বা নিয়োগকর্তার কাছে জেনে নিন, নতুন পাসপোর্টে তা কীভাবে নেওয়া যায়।
একটা উদাহরণ। রাশেদের ২০১৬ সালের MRP-র মেয়াদ ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হয়েছে, তিনি অক্টোবরে রিনিউ করতে গেলেন। মেয়াদ পেরোনোর জন্য কোনো জরিমানা লাগেনি। ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর, রেগুলার ডেলিভারির ফি দিলেন ৫,৭৫০ টাকা, আর অফিসে পুরোনো MRP জমা দিলেন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
passport renew korte ki ki lage?
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে কি জরিমানা দিতে হয়?
পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে?
পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার কতদিন আগে রিনিউ করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।