
সংক্ষেপে
যায়, তবে শর্তসাপেক্ষে। ই-পাসপোর্ট পোর্টালের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী এনরোলমেন্টের পরও এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে আপগ্রেড করা যায়, যদি আবেদন তখনো প্রক্রিয়াধীন থাকে আর পাসপোর্ট ছাপা (প্রোডাকশন) না হয়ে থাকে। বাড়তি ফি দিতে হয় ব্যাংকে, আর আপগ্রেড করা যায় একবারই।
ফি দেওয়ার পর ডেলিভারি স্লিপ আর ব্যাংকের জমা স্লিপ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হয়। অধিদপ্তরের হিসাবে রেগুলার পাসপোর্টে ১৫ কর্মদিবস আর এক্সপ্রেসে ৭ কর্মদিবস লাগার কথা।
আপগ্রেডের আগে দেখে নিন পাসপোর্ট এখনো প্রক্রিয়াধীন কি না।
এই লেখায়
১. রেগুলার থেকে এক্সপ্রেস পাসপোর্ট: কখন বদলানো যায়
পরিস্থিতিটা চেনা। আপনি রেগুলারে আবেদন করেছিলেন, হাতে সময় ছিল। এখন হঠাৎ ভিসার সাক্ষাৎকার, চাকরির অফার বা চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার তারিখ চলে এসেছে। নতুন করে আবেদন করার দরকার নেই, একই আবেদন এক্সপ্রেসে তোলা যায়।
অনেকে জানেনই না যে এই সুযোগ আছে। তাঁরা হয় অপেক্ষায় দিন গোনেন, নয়তো দালালের কাছে যান। অথচ ই-পাসপোর্ট পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে বিষয়টি পরিষ্কার লেখা, আর কাজটা নিজেই করা যায়। নিচের শর্তগুলো মিললে আপনিও পারবেন।
- এনরোলমেন্ট, মানে ছবি আর আঙুলের ছাপ দেওয়া, হয়ে গেছে।
- আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন, পাসপোর্ট ছাপা হয়ে যায়নি।
- আগে কখনো এই আবেদনে আপগ্রেড করেননি, কারণ সুযোগ একবারই।
- মূল ফি অনলাইনে দিয়ে থাকলেও বাড়তি ফি দিতে হবে ব্যাংকে।
পোর্টালের প্রথম পাতা থেকে আবেদনের অবস্থা দেখুন। পাসপোর্ট ছাপা হয়ে গেলে বা Ready for Issuance দেখালে আপগ্রেডের আর সুযোগ নেই, তখন বাড়তি টাকা দিয়ে লাভ হবে না।
২. আপগ্রেড করবেন যেভাবে
- ১স্ট্যাটাস মিলিয়ে নিনঅ্যাপ্লিকেশন আইডি বা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি আর জন্মতারিখ দিয়ে পোর্টালে আবেদনের অবস্থা দেখুন। স্ক্রিনশট রাখুন।
- ২বাড়তি ফি কত, জেনে নিননিচের ফি তালিকায় রেগুলার আর এক্সপ্রেসের পার্থক্য দেখে আন্দাজ পাবেন। নিশ্চিত হতে ব্যাংক বা পাসপোর্ট অফিসে জিজ্ঞেস করুন।
- ৩ব্যাংকে টাকা জমা দিনপাসপোর্টের ফি নেয় এমন তালিকাভুক্ত ব্যাংকে বাড়তি ফি জমা দিয়ে জমার স্লিপ নিন। স্লিপে আপনার নাম আর অঙ্ক ঠিক আছে কি না দেখে নিন।
- ৪অফিসে যানএনরোলমেন্টের দিন পাওয়া ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপ আর ব্যাংকের জমা স্লিপ নিয়ে যে অফিসে আবেদন করেছেন, সেখানে যান।
- ৫নতুন তারিখ জেনে নিনআপগ্রেড হলে ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ বদলায়। অফিস থেকে নতুন তারিখ জেনে নিন, আর পরের দিনগুলোয় স্ট্যাটাস দেখতে থাকুন।
অফিসে নিয়ে যাবেন
৩. রেগুলার আর এক্সপ্রেস পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায়, ফি কত
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টারে তিন ধরনের ডেলিভারির সময় আর ফি দেওয়া আছে। ফি ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ, দেশের ভেতরের আবেদনের জন্য।
| পাসপোর্টের ধরন | রেগুলার, ১৫ কর্মদিবস | এক্সপ্রেস, ৭ কর্মদিবস | সুপার এক্সপ্রেস, ২ কর্মদিবস |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
তালিকা থেকে দেখা যায়, ৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টে রেগুলার আর এক্সপ্রেসের ফির ব্যবধান ২,৩০০ টাকা। বাড়তি ফি ঠিক এই ব্যবধানই কি না, পোর্টালের প্রশ্নোত্তরে স্পষ্ট লেখা নেই, তাই ব্যাংকে জমার আগে অফিস থেকে অঙ্কটা নিশ্চিত করুন।
কর্মদিবস মানে শুক্র-শনিবার আর সরকারি ছুটি বাদে দিন। তাই ৭ কর্মদিবস ক্যালেন্ডারে মোটামুটি দেড় সপ্তাহ, ১৫ কর্মদিবস তিন সপ্তাহের মতো। আর এই সময় গোনা শুরু হয় এনরোলমেন্টের পর থেকে, আপগ্রেডের দিন থেকে নতুন করে কত দিন লাগবে তা অফিস বলবে।
৪. কখন আপগ্রেডে লাভ নেই
ব্যাকএন্ড যাচাইয়ে আটকে থাকা বা আবেদন দীর্ঘদিন একই ধাপে পড়ে থাকার সমস্যা নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে। এক্সপ্রেসের টাকা দেওয়ার আগে সেগুলো একবার মিলিয়ে নিন।
আপগ্রেড করলেই যে পরদিন পাসপোর্ট মিলবে, তা নয়। আবেদন যদি কোনো কারণে আটকে থাকে, যেমন তথ্যের গরমিল বা ব্যাকএন্ড যাচাই বাকি, তাহলে এক্সপ্রেসের টাকা দিলেও সেই জট আগে খুলতে হবে। তখন বাড়তি টাকার চেয়ে আটকে থাকার কারণটা জানা বেশি জরুরি।
- স্ট্যাটাসে পাসপোর্ট ছাপা হয়ে গেছে বা অফিসে পৌঁছে গেছে দেখালে।
- আগে একবার আপগ্রেড করে ফেলেছেন।
- আবেদন তথ্যের গরমিলে আটকে আছে, সেটা না মেটা পর্যন্ত।
- যাত্রার তারিখ আর মাত্র দুই-এক দিন পর, তখন এক্সপ্রেসের সময়ও যথেষ্ট নাও হতে পারে।
আপগ্রেডের কাজ নিজে করা যায়, ফি ব্যাংকে আর কাগজ অফিসে। কেউ বাড়তি টাকা নিয়ে দ্রুত পাসপোর্ট এনে দেওয়ার কথা বললে সেই ফাঁদে পা দেবেন না, অফিসের হেল্পডেস্কে সরাসরি কথা বলুন।
৫. একটা উদাহরণে পুরো হিসাব
ধরা যাক, রাশেদ ৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য রেগুলারে ৫,৭৫০ টাকা দিয়ে আবেদন করেছেন। রবিবার এনরোলমেন্ট হলো। বুধবার খবর এল, দুই সপ্তাহ পর তাঁর বিদেশে চাকরির সাক্ষাৎকার, তার আগে পাসপোর্ট লাগবে।
বৃহস্পতিবার তিনি পোর্টালে দেখলেন আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন, ছাপা হয়নি। অফিসে ফোন করে বাড়তি ফির অঙ্ক নিশ্চিত হলেন, তালিকাভুক্ত ব্যাংকে টাকা জমা দিলেন, আর ডেলিভারি স্লিপ ও ব্যাংক স্লিপ নিয়ে পরের কর্মদিবসে যে অফিসে আবেদন করেছিলেন সেখানে গেলেন। আপগ্রেড হয়ে যাওয়ার পর অফিস তাঁকে নতুন সম্ভাব্য তারিখ জানাল।
রাশেদের ক্ষেত্রে সময় বেঁচেছে কারণ তিনি দেরি করেননি। এনরোলমেন্টের পর যত দিন যায়, পাসপোর্ট ছাপার ধাপে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়ে, তখন আর আপগ্রেড হয় না। তাই সিদ্ধান্ত নিলে দ্রুত নিন।
এখানে দুটি জিনিস লক্ষ করুন। প্রথমত, রাশেদ টাকা দেওয়ার আগে স্ট্যাটাস দেখেছেন। দ্বিতীয়ত, নতুন আবেদন না করে পুরোনো আবেদনই আপগ্রেড করেছেন। নতুন করে আবেদন করলে আবার পুরো ফি আর নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের ঝামেলা হতো।
৬. অনেকে যা জানতে চান
রেগুলার পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায়?
রেগুলার থেকে এক্সপ্রেসে কতবার বদলানো যায়?
অনলাইনে ফি দিয়েছিলাম, বাড়তি টাকাও কি অনলাইনে দেওয়া যাবে?
জমার পর কি সুপার এক্সপ্রেসে বদলানো যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।