ভূমি ও নামজারি

জমা খারিজ আর নামজারি কি এক: খারিজ, জমাভাগ আর জমা একত্রীকরণের পার্থক্য, আইন কী বলে, ফি কত

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ভূমি সেবা হেল্পলাইন ১৬১২২mutation.land.gov.bd
জমা খারিজ আর নামজারি কি এক: খারিজ, জমাভাগ আর জমা একত্রীকরণের পার্থক্য, আইন কী বলে, ফি কত

সংক্ষেপে

জমা খারিজ আর নামজারি মুখের ভাষায় একই কাজ: আগের মালিকের নাম খতিয়ান থেকে বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নাম তোলা। ইংরেজিতে Mutation। তবে নামজারির আবেদনে প্রায়ই সঙ্গে আরেকটা কাজ হয়, জমাভাগ, মানে একটি যৌথ জোত ভেঙে আপনার অংশের আলাদা খতিয়ান খোলা।

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ধারায় রেকর্ড হালনাগাদের দুটো কারণ আলাদা করে লেখা আছে: হস্তান্তর বা উত্তরাধিকারের ফলে নামজারি, আর জোতের বিভাজন, একত্রীকরণ বা সংহতি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হার অনুযায়ী নামজারিতে সরকারি খরচ মোট ১,১৭০ টাকা।

ই-নামজারির সরকারি পোর্টাল

নামজারি, জমাভাগ আর আবেদনের অবস্থা অনলাইনে দেখার ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা।

পোর্টাল খুলুন
এই লেখায়
  1. খারিজ ও নামজারির মধ্যে পার্থক্য কি
  2. নামজারি জমাভাগ কি, আইন কী বলে
  3. খারিজ করতে কত টাকা লাগে
  4. খারিজ আর খতিয়ান কি এক, খারিজ খতিয়ান চেনার উপায়
  5. জমা খারিজ না করলে কি হয়
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. খারিজ ও নামজারির মধ্যে পার্থক্য কি

গ্রামে কেউ বলেন জমি খারিজ করেছি, কেউ বলেন নামজারি, শহরে বলে মিউটেশন। জমি কিনে দলিল হাতে পাওয়ার পর সরকারি রেকর্ডে নিজের নাম তোলার কাজকেই সবাই বোঝান। তিনটা শব্দ আলাদা হলেও সাধারণ মানুষের কাছে কাজ একটাই।

শব্দের ভেতরে একটু তফাত আছে। খারিজ মানে বাদ দেওয়া, অর্থাৎ আগের মালিকের নাম কাটা। নামজারি মানে নতুন নাম চালু করা। একটা ছাড়া আরেকটা হয় না, তাই এক আবেদনেই দুটো হয়। আলাদা করে খারিজের আবেদন বলে কিছু নেই।

শব্দমানেকখন
নামজারি বা মিউটেশননতুন মালিকের নাম খতিয়ানে তোলাকেনা, দান, উত্তরাধিকার বা আদালতের ডিক্রির পর
জমা খারিজআগের মালিকের জমা থেকে নাম ও জমি বাদ দেওয়ানামজারির সঙ্গেই
জমাভাগএকটি যৌথ জোত ভেঙে আলাদা জোত ও খতিয়ানদাগের পুরোটা নয়, অংশ কিনলে বা ওয়ারিশরা ভাগ করলে
জমা একত্রীকরণএকই মৌজায় একজনের কয়েকটি জোত এক করাএকই মালিকের ছড়ানো জমি এক খতিয়ানে আনতে

২. নামজারি জমাভাগ কি, আইন কী বলে

ধরুন, যশোরের আবুল কাশেম একটা খতিয়ানের ১০০ শতাংশের মধ্যে ২০ শতাংশ কিনলেন। শুধু নাম তুললে হবে না, কারণ খতিয়ানটা বিক্রেতার পুরো জোতের। তাঁর ২০ শতাংশ আলাদা করে নতুন জোত খুলতে হবে, যাতে খাজনাও আলাদা হয়। এটাই জমাভাগ। দুটো কাজ একসঙ্গে হয় বলে লোকমুখে প্রায়ই বলা হয় নামজারি ও জমাভাগ।

আইনের ভিত্তি রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০। এর ১১৭ ধারা বলছে, এক বা একাধিক যৌথ মালিকের আবেদনে রাজস্ব কর্মকর্তা যৌথ জোত ভাগ করে খাজনাও ভাগ করে দিতে পারেন, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে যুক্তিসংগত নোটিশ দিয়ে শুনানির পরই আদেশ হবে। ভাগ মাঠে চিহ্নিত করা আর নকশায় দেখানো যায়, সেটাও একই ধারায় আছে।

১১৬ ধারা উল্টো দিকের কাজ: একই গ্রামে একজনের কয়েকটি আলাদা জোত থাকলে রাজস্ব কর্মকর্তার আদেশে সেগুলো এক জোতে একত্র করা যায়। আর ১৪৩ ধারায় কালেক্টরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, নামজারি, জোতের বিভাজন বা একত্রীকরণের ফলে রেকর্ড হালনাগাদ রাখতে।

৩. খারিজ করতে কত টাকা লাগে

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমিসেবার নির্ধারিত ফির পাতায় মিউটেশনের খরচ ভাগ ভাগ করে দেওয়া আছে। জমাভাগ আলাদা করে ফি নেয় কি না, সে পাতায় আলাদা লাইন নেই।

খরচের খাতসরকারি ফিকখন দেবেন
আবেদনের কোর্ট ফি২০ টাকাআবেদনের সময়
নোটিশ জারি ফি৫০ টাকাআবেদনের সময়
ডিসিআর ফি১,১০০ টাকাআবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর
মোট১,১৭০ টাকা
রিভিউ আবেদনের কোর্ট ফি ও নোটিশ জারি৭০ টাকানামঞ্জুর আদেশ রিভিউ করাতে চাইলে
রিভিউ ডিসিআর ফি১,১০০ টাকারিভিউতে মঞ্জুর হলে
এর বাইরে টাকা চাইলে

সরকারি খরচ এই কয়েকটি খাতেই। অফিসে কেউ দ্রুত করে দেওয়ার কথা বলে বাড়তি টাকা চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা ভূমি মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ ব্যবস্থায় জানান।

৪. খারিজ আর খতিয়ান কি এক, খারিজ খতিয়ান চেনার উপায়

খতিয়ান হলো রেকর্ড, খারিজ হলো সেই রেকর্ড বদলানোর কাজ। খারিজ বা নামজারি শেষ হলে আপনি যে নতুন খতিয়ান পান, মানুষ সেটাকেই বলে খারিজ খতিয়ান বা নামজারি খতিয়ান। আর মাঠ জরিপে তৈরি সিএস, এসএ, আরএস বা বিএস খতিয়ান জরিপের রেকর্ড, নামজারির নয়।

  • ডিসিআর হলো নামজারির ১,১০০ টাকা ফি দেওয়ার রসিদ। নামজারি খতিয়ানের সঙ্গে এটা যত্ন করে রাখুন, হারালে আবার তুলতে ঝামেলা।
  • জমাভাগ হলে আপনার অংশের জন্য আলাদা জোত খোলে, তাই আপনার খতিয়ান আর বিক্রেতার খতিয়ান আলাদা হয়ে যায়।
  • নামজারির পর ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দিতে হয় নিজের নামের হোল্ডিংয়ে।
  • আবেদনের অবস্থা আর খতিয়ান আসল কি না দেখার সোজা পথ ই-নামজারি পোর্টাল বা উপজেলা ভূমি অফিস।
যা নিশ্চিত হতে পারিনি

নামজারি খতিয়ানের কাগজে ঠিক কোন কোন ঘর থাকে, তার কোনো সরকারি নমুনা ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পাতায় আমরা দেখতে পাইনি। সন্দেহ হলে উপজেলা ভূমি অফিসে খতিয়ান মিলিয়ে নিন।

৫. জমা খারিজ না করলে কি হয়

দলিল রেজিস্ট্রি হলে মালিকানা বদলায়, কিন্তু সরকারি রেকর্ডে আগের মালিকের নামই থেকে যায়। ফলে খাজনা দেওয়া, পরে বিক্রি বা ব্যাংকে বন্ধক রাখার সময় প্রশ্ন ওঠে, আর আগের মালিকের ওয়ারিশরা দাবি তুললে প্রমাণ দুর্বল হয়ে যায়। ধরুন, কয়েক বছর পর আপনি জমিটা বেচতে চাইলেন। ক্রেতা প্রথমেই দেখতে চাইবেন খতিয়ানে কার নাম আর খাজনা কার নামে দেওয়া।

  • ১
    দলিল আর আগের খতিয়ান গুছিয়ে নিনরেজিস্ট্রি দলিল বা উত্তরাধিকারের কাগজ, বিক্রেতার নামে থাকা খতিয়ান আর খাজনার রসিদ।
  • ২
    ই-নামজারিতে আবেদন করুনপোর্টালে নামজারির আবেদন করুন, অংশ কিনলে জমাভাগের তথ্যও দিন। ২০ টাকা কোর্ট ফি আর ৫০ টাকা নোটিশ ফি দিন।
  • ৩
    শুনানিতে হাজির থাকুনসহকারী কমিশনার (ভূমি) শুনানির তারিখ দিলে মূল কাগজ নিয়ে যান।
  • ৪
    ডিসিআর ফি দিয়ে খতিয়ান নিনমঞ্জুর হলে ১,১০০ টাকা ডিসিআর ফি দিয়ে নতুন খতিয়ান নামান।

নামজারি নামঞ্জুর হলে বা ভুল হলে রিভিউয়ের পথ আছে, ফির হিসাব ওপরের ছকে। জমির বিরোধ বা ওয়ারিশদের মধ্যে আপত্তি থাকলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে বা একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

৬. অনেকে যা জানতে চান

জমা খারিজ আর নামজারি কি এক?
সাধারণ মানুষের ভাষায় একই কাজ: আগের মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নাম খতিয়ানে তোলা। খারিজ মানে বাদ দেওয়া, নামজারি মানে নতুন নাম চালু করা, দুটো এক আবেদনেই হয়।
নামজারি জমাভাগ কি?
জমির অংশ কিনলে বা ওয়ারিশরা ভাগ নিলে যৌথ জোত ভেঙে আপনার অংশের আলাদা জোত ও খতিয়ান খোলাকে জমাভাগ বলে। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১১৭ ধারায় এর বিধান আছে।
খারিজ করতে কত টাকা লাগে?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের হার অনুযায়ী আবেদনের কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা আর ডিসিআর ফি ১,১০০ টাকা, মোট ১,১৭০ টাকা।
kharij ar khatian ki ek?
না। খতিয়ান হলো জমির মালিকানার রেকর্ড, খারিজ হলো সেই রেকর্ড বদলানোর কাজ। খারিজ শেষে যে নতুন খতিয়ান পান, সেটাকে খারিজ খতিয়ান বা নামজারি খতিয়ান বলে।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
ভূমি সেবা

DCR ফি দেওয়ার পরও খতিয়ান প্রিন্ট না এলে যা দেখবেন

ই-নামজারির DCR ফি দেওয়ার পর খতিয়ান প্রিন্ট না এলে নতুন আবেদনের আগে পেমেন্ট স্ট্যাটাস, চালান আর আবেদন নম্বর কীভাবে মিলিয়ে দেখবেন।
ভূমি সেবা

ই-নামজারি শুনানি ও নামঞ্জুর: কোন কাগজ লাগবে

ই-নামজারির শুনানির নোটিশ এলে বা আবেদন Rejected দেখালে কারণটা কোথায় পড়বেন, কোন দলিল ও খতিয়ান গুছিয়ে রাখবেন, আর আবার আবেদনের আগে কী ঠিক করবেন।

অনেকে খোঁজেন