
সংক্ষেপে
দেরি হচ্ছে মনে হলে আগে সরকারি ই-নামজারি পোর্টালে আবেদন নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস দেখুন। আবেদন তদন্তে, শুনানিতে, DCR ফির অপেক্ষায় নাকি খতিয়ান প্রস্তুতের ধাপে আছে, সেটা বুঝে তারপর পরের কাজ ঠিক করুন।
এই লেখায়
Pending বা গ্রহণাধীন দেখালে
জমা দেওয়ার পর প্রথম কিছুদিন Pending বা গ্রহণাধীন দেখানোটা স্বাভাবিক। এ সময় সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস আবেদনটি প্রাথমিকভাবে দেখে থাকতে পারে। এর মধ্যে জমির দলিল, খতিয়ান, দাখিলা আর আবেদন নম্বর গুছিয়ে রাখুন।
শুনানির নোটিশ এলে
নোটিশে যে তারিখ দেওয়া, সেদিন কাগজপত্র নিয়ে হাজির হন। মূল দলিল, আগের খতিয়ান, দাখিলা, NID আর আবেদনের কপি সঙ্গে থাকলে কর্মকর্তার পক্ষে যাচাই করা সহজ হয়।
DCR ফি জমার ধাপ এলে
আবেদন মঞ্জুরের দিকে এগোলে DCR ফি বা সরকারি ফি জমার ধাপ আসতে পারে। টাকা পাঠানোর আগে পোর্টালে আবেদন নম্বর আর জমির তথ্য আরেকবার মিলিয়ে নিন।
খতিয়ান প্রস্তুত দেখালে
নামজারি মঞ্জুর হলে খতিয়ান বা পর্চার তথ্য সরকারি ভূমি পোর্টাল বা খতিয়ান সেবায় পাওয়া যেতে পারে। স্ট্যাটাসে খতিয়ান প্রস্তুত দেখালে সেখানে দেওয়া ডাউনলোড বা সংগ্রহের নির্দেশনাটা পড়ে নিন।
আরও পড়ুন
কত দিনকে দেরি বলবেন
ই-নামজারি পোর্টালের নির্দেশিকা বলছে, একটি নামজারি সাধারণত ২৮ দিনে নিষ্পত্তি হয়। তবে এই হিসাবে সব দিন ধরা হয় না। পোর্টালের তথ্যচিত্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আবেদন অসম্পূর্ণ থাকায় নথি যত দিন আবেদনকারীর কাছে ফেরত থাকে, সেই দিনগুলো গোনা হয় না। নথি আবার জমা পড়লে তখন থেকে গোনা চালু হয়।
জমার সময় কাগজ আপলোড না করে যদি বেছে নিয়ে থাকেন যে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে এসি ল্যান্ড অফিসে কাগজ দেবেন, কিংবা শুনানির দিন দেবেন, তাহলে ফাইল আসলে আপনার কাগজের অপেক্ষায় আছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাগজ জমা না দিলে স্ট্যাটাস বদলাবে না।
আবেদন জমার পর ফি দেওয়ার ধাপে অনলাইন শুনানির প্রশ্নে হ্যাঁ দিন। এসি ল্যান্ড রাজি হলে আবেদনে দেওয়া মোবাইলে শুনানির লিংক পাঠান। শুনানির আগে খসড়া খতিয়ান পোর্টালের নাগরিক কর্নারে দেখা যায়, ভুল থাকলে শুনানিতেই বলুন।
২৮ দিন পার হলে কার কাছে যাবেন
- ১শেষ টেবিলটা টুকে নিনট্র্যাকিং পাতায় ফাইল সর্বশেষ কোন ডেস্কে, কোন তারিখে গেছে, তা লিখে রাখুন। ফোনে বা অভিযোগে এই তথ্য দিলে খোঁজ নেওয়া সহজ হয়।
- ২১৬১২২ নম্বরে ফোন করুনপোর্টালের নির্দেশিকায় নামজারি আবেদনের তথ্যের জন্য কল সেন্টারের এই নম্বর দেওয়া আছে। আবেদন নম্বর হাতে রেখে ফোন করুন।
- ৩অনলাইনে অভিযোগ দিনভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৬১২২ হেল্পলাইন পোর্টালে নাগরিক লগইন করে অভিযোগ প্রতিকার বা কারিগরি সহায়তা বেছে সমস্যা লিখুন। পোর্টালের ঠিকানা hotline.land.gov.bd।
- ৪দরকারে নিজে অফিসে যানআবেদনের কপি, ফি জমার রসিদ আর ট্র্যাকিংয়ের স্ক্রিনশট নিয়ে উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দপ্তরে খোঁজ নিন।
পোর্টালের তথ্যচিত্রের ব্যাখ্যায় বলা আছে, DCR ফি না দিলে ৩০ দিন পর আবেদনটি নিজে থেকেই আর্কাইভে চলে যায়, তবে নামঞ্জুর হয় না। এসএমএস পেলে দেরি না করে ফি দিন। আর্কাইভে চলে গেলে আবেদন নম্বর নিয়ে ১৬১২২ নম্বরে বা ভূমি অফিসে খোঁজ নিন।
স্ট্যাটাসে নামঞ্জুর দেখালে
নামঞ্জুর হলে আদেশে কী কারণ দেখানো হয়েছে, আগে সেটা জেনে নিন। কাগজের ঘাটতি হলে সেই কাগজ জোগাড় করে রিভিউ আবেদন করা যায়, পোর্টালেই রিভিউয়ের আলাদা ফি জমার ব্যবস্থা আছে। ভূমি সেবার সরকারি ফি তালিকা অনুযায়ী খরচ এরকম:
| কী জন্য | সরকারি ফি |
|---|---|
| রিভিউ আবেদনের কোর্ট ফি ও নোটিশ জারি ফি একসঙ্গে | ৭০ টাকা |
| রিভিউ মঞ্জুর হলে DCR ফি | ১১০০ টাকা |
রিভিউ আবেদনের জন্য আলাদা একটি নম্বর আসে, সেটি মূল আবেদন নম্বরের পাশে লিখে রাখুন। রিভিউ বা মিসকেসের দিন আলাদাভাবে গোনা হয়, তাই আগের আবেদনের দিনের হিসাব এখানে চলবে না।
দরকারি সরকারি লিংক
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
ফি, সময়সীমা আর নিয়ম বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টালে শেষবার মিলিয়ে নিন।