ভূমি ও নামজারি

DCR ফি দেওয়ার পরও খতিয়ান প্রিন্ট না এলে যা দেখবেন

টাকা দেওয়া হয়ে গেছে, অথচ খতিয়ান প্রিন্টের অপশন আসছে না। এমন হলে অনেকে নতুন করে আবেদন করে বসেন। তার আগে চালান, আবেদনের স্ট্যাটাস আর মঞ্জুরির ধাপটা দেখে নিন।

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দল৭ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ভূমি সেবা হেল্পলাইন ১৬১২২mutation.land.gov.bd
DCR ফি দেওয়ার পর খতিয়ান প্রিন্ট নির্দেশনা

সংক্ষেপে

আবেদন মঞ্জুরের পর DCR ফি জমা, চালান তৈরি আর খতিয়ান প্রিন্ট, এই তিনটি কাজ একসঙ্গে শেষ না-ও হতে পারে। তাই আবেদনের স্ট্যাটাস, পেমেন্টের অবস্থা আর খতিয়ান প্রস্তুত হয়েছে কি না, আলাদা করে দেখুন।

এই লেখায়
  1. DCR ফি আসলে কী
  2. টাকা দেওয়ার পরও প্রিন্ট না এলে
  3. যে তথ্যগুলো হাতের কাছে রাখবেন
  4. কেউ বাড়তি টাকা চাইলে
  5. আরও পড়ুন
  6. পোর্টালের নির্দেশিকায় DCR থেকে প্রিন্ট পর্যন্ত ধাপ
  7. কিউআর কোডের DCR-ই আইনত বৈধ
  8. দিন কয়েক পরেও প্রিন্ট না এলে

DCR ফি আসলে কী

নামজারি মঞ্জুর হওয়ার পর যে সরকারি ফি দিতে হয়, DCR সাধারণত তারই অংশ। টাকা পাঠানোর আগে আবেদন নম্বর, মৌজা, খতিয়ান আর দাগ নম্বরসহ জমির তথ্য মিলিয়ে নিন। ভুল আবেদন নম্বরে টাকা গেলে ঝামেলা আরও বাড়ে।

টাকা দেওয়ার পরও প্রিন্ট না এলে

টাকা জমা হলেও সিস্টেমে চালান বা খতিয়ান তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। আগে আবেদন ট্র্যাকিং পাতায় গিয়ে সর্বশেষ স্ট্যাটাস দেখুন। পেমেন্ট সফল দেখাচ্ছে কি না, আর DCR বা খতিয়ান প্রিন্টের অপশন এসেছে কি না, দুটোই খেয়াল করুন।

যে তথ্যগুলো হাতের কাছে রাখবেন

আবেদন আইডি, মোবাইল নম্বর, পেমেন্টের রসিদ, চালানের তথ্য, খতিয়ান ও দাগ নম্বর আর আবেদনকারীর পরিচয়ের তথ্য একসঙ্গে গুছিয়ে রাখুন। অফিসে যেতে হলে তখন আর খুঁজে বেড়াতে হবে না।

কেউ বাড়তি টাকা চাইলে

সরকারি পোর্টালের বাইরে কাউকে টাকা দেওয়া নিরাপদ নয়। বাড়তি খরচের কথা শুনলে আগে উপজেলা ভূমি অফিস বা সরকারি হেল্পলাইনে জেনে নিন। টাকা দিন কেবল অনুমোদিত পদ্ধতিতে।

আরও পড়ুন

পোর্টালের নির্দেশিকায় DCR থেকে প্রিন্ট পর্যন্ত ধাপ

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি নির্দেশিকায় পুরো পথটা এভাবে বলা আছে। কোন ধাপে আটকে আছেন, এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

  • ১
    এসি ল্যান্ডের চূড়ান্ত আদেশসহকারী কমিশনার (ভূমি) আবেদন মঞ্জুর করার পর অফিস সহকারী অনলাইনে খতিয়ান প্রস্তুত করেন। খতিয়ান প্রস্তুত হওয়ার পরই ফি দেওয়ার পালা আসে।
  • ২
    ফি দেওয়ার এসএমএসখতিয়ান প্রস্তুত হলে আবেদনে দেওয়া মোবাইলে DCR ফি দেওয়ার এসএমএস যায়। এরপর পোর্টালের আবেদন ট্র্যাকিংয়ে বিভাগ বেছে আবেদন নম্বর দিয়ে দেখুন মঞ্জুর দেখাচ্ছে কি না।
  • ৩
    ১১০০ টাকা অনলাইনে জমাট্র্যাকিং পাতা থেকেই নগদ, রকেট, বিকাশ, উপায়, ভিসা, মাস্টারকার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ফি দেওয়া যায়। টাকা জমা পড়লে অনলাইনেই চালানের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
  • ৪
    চালান পরিশোধিত হলে প্রিন্টচালান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধিত হলে আবার ট্র্যাকিং করুন। তখন খতিয়ান প্রিন্ট আর DCR প্রিন্টের বাটন আসে।

অর্থাৎ টাকা কাটা আর প্রিন্ট আসার মাঝে চালান পরিশোধের একটা ধাপ আছে। টাকা কেটে যাওয়ার পরপরই বাটন না এলে অন্তত এই ধাপ শেষ হওয়ার সময়টুকু দিন, তারপর আবার ট্র্যাকিং করুন।

কিউআর কোডের DCR-ই আইনত বৈধ

কেউ যদি বলেন অনলাইনের কপি চলবে না, অফিস থেকে হাতে লেখা DCR তুলতে হবে, জেনে রাখুন সরকারি নির্দেশনা ভিন্ন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২ নভেম্বর ২০২১ তারিখের নির্দেশনা অনুযায়ী কিউআর কোডযুক্ত অনলাইন DCR হাতে লেখা DCR-এর সমান, আইনগতভাবে বৈধ আর সব জায়গায় গ্রহণযোগ্য। তাই প্রিন্ট পেয়ে গেলে আলাদা করে ভূমি অফিসে গিয়ে DCR নেওয়ার দরকার নেই।

নামজারির ফিপরিমাণ
আবেদনের কোর্ট ফি২০ টাকা
নোটিশ জারি ফি৫০ টাকা
DCR ফি১১০০ টাকা
রিভিউ আবেদনের কোর্ট ফি ও নোটিশ জারি ফি৭০ টাকা
রিভিউ DCR ফি১১০০ টাকা

অনলাইনে দেওয়ার সময় পেমেন্ট মাধ্যমের সামান্য চার্জ যোগ হতে পারে, পেমেন্ট পাতার চার্জ তালিকায় সেটা দেখায়। এর বাইরে খতিয়ান বা DCR প্রিন্টের জন্য সরকারি কোনো ফি নেই।

দিন কয়েক পরেও প্রিন্ট না এলে

অভিযোগের আগে হাতে রাখুন

এগুলো নিয়ে কল সেন্টারের ১৬১২২ নম্বরে ফোন করুন। ফোনে সমাধান না হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৬১২২ হেল্পলাইন পোর্টালে নাগরিক লগইন করে কারিগরি সহায়তা বেছে লিখিতভাবে সমস্যা জানান। লেনদেন নম্বর আর আবেদন নম্বর লিখতে ভুলবেন না। পরে অফিসে গেলে অভিযোগ আর স্ক্রিনশট দুটোই দেখাতে পারবেন।

আবার টাকা দেবেন না

প্রিন্ট আসছে না বলে একই আবেদনে দ্বিতীয়বার DCR ফি দিলে বাড়তি টাকা ফেরত পেতে আলাদা করে দৌড়াতে হতে পারে। প্রথম লেনদেনের অবস্থা নিশ্চিত না হয়ে নতুন করে পেমেন্ট করবেন না।

দরকারি সরকারি লিংক

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

ফি, সময়সীমা আর নিয়ম বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টালে শেষবার মিলিয়ে নিন।

সরকারি সাইট

অনেকে খোঁজেন