সংক্ষেপে
খতিয়ান বা পর্চা দেখতে আর কপি তুলতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা dlrms.land.gov.bd ব্যবহার করুন, লোকমুখে যাকে ই-পর্চা বলে। সার্ভে খতিয়ান না নামজারি খতিয়ান বেছে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, জরিপ আর মৌজা দিন, তারপর খতিয়ান নম্বর লিখে খুঁজুন। নম্বর জানা না থাকলে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়েও খোঁজা যায়।
কিউআর কোডযুক্ত অনলাইন কপি টাকা দেওয়ার পরই PDF আকারে নামানো যায়। সার্টিফাইড কপি অফিসে প্রস্তুত হয়ে ডাকে বা অফিস কাউন্টারে আসে। দুটোরই ফি ১২০ টাকা (সরকারি ফি ১০০ আর সেবা ফি ২০), সার্টিফাইড কপি ডাকে নিলে বাড়তি ৪০ টাকা।
খতিয়ান খোঁজা, অনলাইন কপি, সার্টিফাইড কপির আবেদন আর আবেদনের অবস্থা।
এই লেখায়
১. কোন খতিয়ান খুঁজছেন
খতিয়ান হলো জমির মালিকানার রেকর্ড। এতে মালিকের নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি, অংশ আর পরিমাণ লেখা থাকে। প্রতিটি জরিপে নতুন খতিয়ান হয়েছে, আর জরিপের পরে মালিকানা বদলালে নামজারিতে আলাদা খতিয়ান তৈরি হয়। তাই খোঁজার আগে ঠিক করুন কোনটা দরকার।
| খতিয়ান | কী বোঝায় | কখন কাজে লাগে |
|---|---|---|
| সিএস (CS) | ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে, ব্রিটিশ আমলের প্রথম জরিপ | অনেক পুরোনো মালিকানার সূত্র খুঁজতে |
| এসএ (SA) | জমিদারি বিলোপের পর রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ আইনে করা জরিপ | পঞ্চাশ-ষাটের দশকের মালিকানা দেখতে |
| আরএস (RS) | রিভিশনাল সার্ভে, পরের সংশোধনী জরিপ | অনেক এলাকায় এখনো চলতি রেকর্ড |
| বিএস বা বিআরএস (BS) | বাংলাদেশ সার্ভে, সাম্প্রতিক জরিপ | যেখানে চূড়ান্ত হয়েছে, সেখানে সর্বশেষ রেকর্ড |
| নামজারি খতিয়ান | জরিপের পরে নামজারিতে তৈরি খতিয়ান | কেনা বা ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমির হালনাগাদ মালিকানা |
নদী বা চরের জমিতে দিয়ারা জরিপ, আর ঢাকাসহ কয়েকটি শহরে সিটি জরিপের খতিয়ানও আছে। আপনার এলাকায় কোন জরিপ সর্বশেষ চূড়ান্ত হয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি অফিস বলতে পারবে।
এক জরিপের দাগ নম্বর অন্য জরিপে আলাদা। তাই দলিলে যে জরিপের দাগ লেখা, সেই জরিপের খতিয়ানই খুঁজুন। যেসব খতিয়ানে তথ্য তোলা আছে, সেখানে পোর্টালের 'হালসাবেক' অংশে বর্তমান দাগের পাশে আগের আরএস দাগ দেখা যায়।
২. অনলাইনে খোঁজার ধাপ
- ১খতিয়ানের ধরন বাছুনdlrms.land.gov.bd খুলে সার্ভে খতিয়ান বা নামজারি খতিয়ান বেছে নিন।
- ২এলাকা, জরিপ আর মৌজা দিনবিভাগ, জেলা, উপজেলা বেছে জরিপের ধরন (যেমন আরএস বা বিএস) আর মৌজা নির্বাচন করুন। একই নামের একাধিক মৌজা থাকলে জেএল নম্বর মিলিয়ে নিন।
- ৩খতিয়ান নম্বর দিয়ে খুঁজুনখতিয়ান নম্বর লিখে খুঁজুন। নম্বর না জানলে 'অধিকতর অনুসন্ধান' থেকে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে খোঁজা যায়।
- ৪ফলাফল মিলিয়ে দেখুনফলাফলে খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম, দাগ নম্বর আর জমির পরিমাণ দেখায়। দলিলের তথ্যের সঙ্গে মিললে তবেই কপির জন্য এগোন।
৩. অনলাইন কপি না সার্টিফাইড কপি
| বিষয় | অনলাইন কপি | সার্টিফাইড কপি |
|---|---|---|
| কী পাবেন | কিউআর কোডযুক্ত খতিয়ানের PDF | অফিস থেকে সত্যায়িত ছাপা কপি |
| কখন হাতে আসে | টাকা দেওয়ার পরই নামানো যায় | অফিস প্রস্তুত করার পর; সম্ভাব্য তারিখ আবেদনে দেখায় |
| ফি | ১২০ টাকা | ১২০ টাকা |
| কীভাবে পাবেন | পোর্টাল থেকে ডাউনলোড | ডাকে (বাড়তি ৪০ টাকা), অথবা যে অফিসে চালু আছে সেখানের কাউন্টারে |
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর পরিপত্রে যেকোনো খতিয়ানের অনলাইন বা সার্টিফাইড কপির ফি ঠিক হয়েছে সরকারি ফি ১০০ আর সেবা ফি ২০, মোট ১২০ টাকা। পোর্টালের নোটিশেও ১২০ টাকাই বলা আছে। কিছু পুরোনো তালিকায় ১০০ টাকা লেখা দেখলে বিভ্রান্ত হবেন না।
নিজে মিলিয়ে দেখা বা জমি কেনার আগে যাচাইয়ের জন্য অনলাইন কপিই যথেষ্ট। আদালত, ব্যাংক বা কোনো দপ্তর সার্টিফাইড কপি চাইলে সেটাই নিন; কোন কপি গ্রহণ করবে, তাদের কাছে আগে জেনে নিন।
৪. কপি অর্ডার আর ফি দেওয়ার ধাপ
- ১ঝুড়িতে রাখুনফলাফলের খতিয়ানে ডাবল ক্লিক করে আবেদনের অপশন খুলুন, কপির ধরন বেছে ঝুড়িতে রাখুন। একবারে সর্বোচ্চ ১৫টি খতিয়ান রাখা যায়, তবে একই অফিসের ৫টির বেশি নয়।
- ২চেকআউটে তথ্য দিনআবেদনকারীর NID নম্বর, জন্মতারিখ আর মোবাইল নম্বর দিয়ে যাচাই করুন। সার্টিফাইড কপি ডাকে নিলে ঠিকানা আর পোস্ট কোড দিন।
- ৩অনলাইনে ফি দিনবিকাশ, নগদ, রকেট বা উপায়ে ওটিপি আর পিন দিয়ে টাকা দিন। খতিয়ানের আবেদন আর সব ফি এখন অনলাইনেই দিতে হয়।
- ৪কপি নিনঅনলাইন কপি পেমেন্টের পর PDF আকারে নামান। সার্টিফাইড কপির অগ্রগতি হোম পাতার 'আবেদনের অবস্থা' থেকে দেখা যায়।
নতুন করে টাকা দেওয়ার আগে 'পেমেন্ট পুনঃযাচাই করুন' বোতাম চাপুন। পোর্টালের শর্ত অনুযায়ী টাকা দেওয়ার পরও খতিয়ান না পেলে টাকা নিজে থেকেই ফেরত যায়।
৫. খতিয়ান না পেলে বা কপি যাচাই করতে
- খোঁজে না এলে আগে দেখুন জরিপ আর মৌজা ঠিক বেছেছেন কি না। খতিয়ান সিস্টেমে আপলোড না হয়ে থাকলে পোর্টাল তা জানিয়ে দেয়; তখনো সার্টিফাইড কপির জন্য ঝুড়িতে রাখা যায়।
- অনলাইনের খতিয়ানে তথ্য ভুল তোলা হয়েছে মনে হলে পোর্টাল থেকে সংশোধনের আবেদন করা যায়, অনুমোদন দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)। ভূমি তথ্য বাতায়নের ফি তালিকায় এর আবেদন ফি ২০ টাকা।
- কেউ খতিয়ানের কপি দেখালে তার কিউআর কোড ভূমি মন্ত্রণালয়ের 'ভূমি' অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করে মিলিয়ে নিন।
- অনলাইনে কাজ না হলে জেলা প্রশাসকের রেকর্ড রুম বা উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে খোঁজ নিন, অথবা ১৬১২২ নম্বরে ফোন করুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
খতিয়ান আর পর্চা কি একই জিনিস?
একসঙ্গে কয়টি খতিয়ানের আবেদন করা যায়?
বিদেশের ঠিকানায় সার্টিফাইড কপি পাঠানো যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।