
সংক্ষেপে
জমির রেকর্ড ভুল হলে আগে দেখুন ভুলটা কোথায়: সর্বশেষ জরিপে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানে, নামজারির খতিয়ানে, নাকি শুধু অনলাইন কপিতে। নাম, দাগ বা অংশের মতো করণিক ভুল শোধরানোর দায়িত্ব কালেক্টরের, মাঠে আবেদন করতে হয় সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র কাছে।
কিন্তু সর্বশেষ জরিপের চূড়ান্ত খতিয়ানে মালিকানা বা অংশ নিয়ে বিরোধ হলে মামলা করতে হয় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে, চূড়ান্ত প্রকাশনার বা ট্রাইব্যুনাল গঠনের তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে। যথেষ্ট কারণে পরের এক বছরেও মামলা নেওয়া যায়।
সংশোধনের আগে নিজের খতিয়ান আর দাগের তথ্য অনলাইনে মিলিয়ে নিন।
এই লেখায়
১. আগে বুঝুন ভুলটা কোন খতিয়ানে
| ভুল কোথায় | উদাহরণ | কোথায় যাবেন |
|---|---|---|
| করণিক ভুল | নামের বানান, বাবার নাম, দাগ নম্বর বা অংশ লিখতে ভুল | সহকারী কমিশনার (ভূমি) |
| নামজারির খতিয়ান | অন্যের নামে ভুল নামজারি, অংশের হিসাব ভুল | সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র কাছে রিভিউ, পরে রিভিশন |
| সর্বশেষ জরিপের চূড়ান্ত খতিয়ান | অন্যের নামে রেকর্ড, জমির পরিমাণ বা মালিকানা ভুল | ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল |
| শুধু অনলাইন কপিতে ভুল | ছাপা খতিয়ানে ঠিক, অনলাইনে ভুল | ভূমি অফিসে সার্টিফাইড কপি দেখিয়ে জানান |
ভুল চেনার জন্য হাতে রাখুন খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি, আপনার দলিল আর আগের জরিপের খতিয়ান। অনলাইন কপি আর সার্টিফাইড কপি না মিললে কোনটিতে ভুল, তা আগে নিশ্চিত হোন।
২. ছোট করণিক ভুল: সহকারী কমিশনার (ভূমি)
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ধারা অনুযায়ী কালেক্টর খতিয়ান হালনাগাদ রাখবেন, করণিক ভুল শুধরে আর নামজারি, ভাগ বা একত্রীকরণের পরিবর্তন যোগ করে। মাঠপর্যায়ে এই কাজ হয় উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিসে, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র মাধ্যমে।
ভূমি তথ্য বাতায়নের ফি তালিকায় ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ, অর্থাৎ ই-পর্চা সেবার অংশে খতিয়ান সংশোধন আবেদন ফি ২০ টাকা লেখা আছে। আবেদনের আগে ভূমি অফিস থেকে জেনে নিন আপনার ভুলটি অনলাইনে আবেদনযোগ্য, নাকি লিখিত আবেদন আর শুনানি লাগবে।
ভূমি প্রশাসন বোর্ডও আইনের ১৪৯ ধারায় যেকোনো সময় সরল বিশ্বাসে হওয়া ভুল এন্ট্রি সংশোধনের আদেশ দিতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিশ দিয়ে শুনানির পর।
৩. রেকর্ড সংশোধন মামলা কোথায় করতে হবে
সর্বশেষ জরিপের চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানে মালিকানা বা অংশ ভুল হলে প্রতিকারের জায়গা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল। আইনের ১৪৫ক ধারা অনুযায়ী এই ট্রাইব্যুনাল শুধু সর্বশেষ জরিপের চূড়ান্ত প্রকাশনা থেকে ওঠা মামলা শোনে।
- মামলা করতে হয় চূড়ান্ত প্রকাশনার তারিখ বা ট্রাইব্যুনাল গঠনের তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে, যেটি পরে।
- দেরির কারণে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হলে পরের এক বছরের মধ্যেও মামলা নেওয়া যায়।
- ট্রাইব্যুনালের বিচারক যুগ্ম জেলা জজ। নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় একজন যুগ্ম জেলা জজকে এই দায়িত্ব দেওয়া যায়।
- ২০২৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানির জন্য ঠিক হওয়া তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে।
- ট্রাইব্যুনাল খতিয়ানকে ভুল ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট অফিসকে রায় অনুযায়ী সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারে।
জরিপের খতিয়ান চূড়ান্ত প্রকাশিত হয়েছে কবে, তা ভূমি অফিস থেকে জেনে নিন। এক বছর আর বাড়তি এক বছর পেরিয়ে গেলে ট্রাইব্যুনালের পথ কঠিন হয়ে যায়। মামলার জন্য একজন আইনজীবীর সাহায্য নিন।
৪. রেকর্ড সংশোধনের আগে যা জোগাড় করবেন
কাগজের তালিকা
৫. ধাপগুলো এক নজরে
- ১সার্টিফাইড কপি তুলুনঅনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির আবেদন করুন, বা ভূমি অফিস থেকে তুলুন। অনলাইন কপিতে ভুল দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন না।
- ২ভুলের ধরন চিহ্নিত করুনদলিল আর আগের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন ভুলটা করণিক, নামজারির, নাকি জরিপের মালিকানা নিয়ে।
- ৩ঠিক জায়গায় আবেদন দিনকরণিক বা নামজারির ভুল হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র কাছে লিখিত আবেদন, আর জরিপের খতিয়ানে বিরোধ হলে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা।
- ৪শুনানি আর আদেশনোটিশের তারিখে মূল কাগজ নিয়ে হাজির হোন। আদেশ বা রায়ের কপি তুলে রাখুন।
- ৫সংশোধিত খতিয়ান মিলিয়ে নিনআদেশের পর নতুন খতিয়ান বা অনলাইন রেকর্ডে সংশোধন হয়েছে কি না দেখুন, প্রয়োজনে নামজারি আর খাজনার হোল্ডিংও হালনাগাদ করুন।
জানতে বা অভিযোগ জানাতে ভূমি সেবা হটলাইন ১৬১২২-এ ফোন করতে পারেন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
খতিয়ান সংশোধন অনলাইন আবেদন করা যায়?
রেকর্ড সংশোধন মামলা কত দিন লাগে?
এক বছর পার হলে কি আর রেকর্ড সংশোধন মামলা করা যায় না?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।