সংক্ষেপে
মৌজা ম্যাপ বা নকশায় একটি মৌজার প্রতিটি জমির টুকরো আলাদা দাগ নম্বর দিয়ে আঁকা থাকে। এর সার্টিফাইড কপি পেতে dlrms.land.gov.bd -তে মৌজা ম্যাপ অংশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, জরিপ আর মৌজা বেছে খুঁজুন, যে শিটে আপনার দাগ সেটিতে ডাবল ক্লিক করে ঝুড়িতে রাখুন এবং অনলাইনে ফি দিন।
প্রতি শিটের ফি ৫৪৫ টাকা (সরকারি ফি ৫২০ আর সেবা ফি ২৫)। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ম্যাপ প্রস্তুত করে ডাকে পাঠায়, দেশের ভেতরে ডাকমাশুল ১১০ টাকা। কেনার আগে মিলিয়ে নিন আপনার দলিল বা খতিয়ান কোন জরিপের।
ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবায় মৌজা ম্যাপ খুঁজে শিট বেছে অনলাইনে ফি দিন।
এই লেখায়
১. মৌজা ম্যাপে কী থাকে
মৌজা হলো রাজস্বের হিসাবের জন্য ভাগ করা একটি এলাকা, আর প্রতিটি মৌজার একটি জেএল নম্বর থাকে। মৌজা ম্যাপে সেই এলাকার সীমানা, প্রতিটি জমির টুকরোর সীমারেখা আর তার দাগ নম্বর আঁকা থাকে, সঙ্গে রাস্তা, খাল বা পুকুরের মতো চিহ্ন।
- দাগ নম্বর: ম্যাপের প্রতিটি আলাদা জমির টুকরোর নম্বর। খতিয়ানে যে দাগ নম্বর লেখা, ম্যাপে সেই নম্বর খুঁজলেই জমির অবস্থান আর আকৃতি পাবেন।
- শিট নম্বর: বড় মৌজা একাধিক শিটে ভাগ করে আঁকা হয়। আপনার দাগ যে শিটে পড়েছে, সেটিই অর্ডার করতে হবে।
- জেএল নম্বর: একই নামের মৌজা আলাদা করে চেনার নম্বর। অর্ডারের সময় মৌজার নামের সঙ্গে এটাও মিলিয়ে নিন।
- পাশের দাগ: চারপাশের দাগ নম্বর দেখে বোঝা যায় কোন জমির পাশে আপনার জমি, সীমানা বা চলাচলের রাস্তার প্রশ্নে যা কাজে লাগে।
মৌজা ম্যাপে মালিকের নাম থাকে না, থাকে শুধু দাগের অবস্থান আর আকৃতি। কোন দাগ কার নামে, জানতে একই জরিপের খতিয়ান লাগবে।
২. কোন জরিপের ম্যাপ নেবেন
সিএস, এসএ, আরএস, বিএস, প্রতিটি জরিপে ম্যাপ নতুন করে আঁকা হয়েছে, দাগ নম্বরও বদলেছে। ভুল জরিপের ম্যাপ কিনলে দলিলের দাগ খুঁজেই পাবেন না।
| আপনার কাজ | যে ম্যাপ নেবেন |
|---|---|
| দলিলে লেখা দাগের জমি খোঁজা | দলিলে যে জরিপের দাগ লেখা, সেই জরিপের ম্যাপ |
| বর্তমান অবস্থা দেখা, নামজারি বা জমি মাপা | এলাকায় সর্বশেষ চূড়ান্ত হওয়া জরিপের ম্যাপ |
| পুরোনো মালিকানার ধারা বা সীমানা নিয়ে বিরোধ | পুরোনো জরিপের ম্যাপ, সঙ্গে সর্বশেষটিও |
এলাকায় কোন জরিপ সর্বশেষ চূড়ান্ত হয়েছে, ইউনিয়ন বা উপজেলা ভূমি অফিসে জিজ্ঞেস করুন। খতিয়ানের 'হালসাবেক' তথ্যে বর্তমান দাগের পাশে আগের দাগ পেলে দুই জরিপের ম্যাপ মেলানো সহজ হয়।
৩. অনলাইনে খোঁজা আর অর্ডারের ধাপ
- ১মৌজা ম্যাপ অংশে যানdlrms.land.gov.bd খুলে মৌজা ম্যাপ বেছে নিন।
- ২এলাকা, জরিপ আর মৌজা দিনবিভাগ, জেলা, উপজেলা, জরিপের ধরন আর মৌজা নির্বাচন করে খুঁজুন। কয়টি ম্যাপ পাওয়া গেল, তার তালিকা আসে।
- ৩শিট বেছে ঝুড়িতে রাখুনযে শিটে আপনার দাগ, সেটির ওপর ডাবল ক্লিক করে ঝুড়িতে রাখুন। দাগ দুই শিটের সীমানায় পড়লে দুটিই নিতে হতে পারে, প্রতিটির ফি আলাদা।
- ৪ঠিকানা দিয়ে ফি দিনচেকআউটে আবেদনকারীর তথ্য আর ডেলিভারির ঠিকানা দিন, তারপর মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডে ফি দিন। মৌজা ম্যাপের আবেদন আর সব ফি এখন শুধু অনলাইনে নেওয়া হয়।
- ৫ম্যাপ হাতে পানভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ম্যাপ প্রস্তুত করে ডাকে পাঠায়। সম্ভাব্য ডেলিভারির তারিখ আর অর্ডারের অবস্থা পোর্টালের 'আবেদনের অবস্থা' থেকে দেখুন।
আবার টাকা না দিয়ে আগে পেমেন্ট পুনঃযাচাই করুন। পোর্টালের শর্তে বলা আছে, টাকা দেওয়ার পরও ম্যাপ না পেলে টাকা নিজে থেকেই ফেরত যায়।
৪. ফি আর ডেলিভারি
| খরচ | পরিমাণ |
|---|---|
| প্রতি শিট মৌজা ম্যাপ (সরকারি ফি ৫২০ + সেবা ফি ২৫) | ৫৪৫ টাকা |
| দেশের ভেতরে ডাকমাশুল | ১১০ টাকা |
| দেশের বাইরে পাঠানো | চেকআউটে যে অঙ্ক দেখায় |
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ভূমি মন্ত্রণালয় এই ফি নতুন করে ঠিক করেছে। পুরোনো কোনো তালিকায় সেবা ফি ছাড়া শুধু ৫২০ টাকা দেখতে পারেন। টাকা দেওয়ার আগে ঝুড়ির মোট অঙ্কটা মিলিয়ে নিন।
৫. শুধু দেখতে চাইলে, আর ম্যাপ খুঁজে না পেলে
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্পের সাইট 'ভূমি নকশা' (map.land.gov.bd)-তে প্রকল্পভুক্ত এলাকার ডিজিটাল মৌজা ম্যাপে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, শিট আর প্লট বেছে দাগ দেখা যায়, সঙ্গে জমির ব্যবহারের সারাংশ। এটা দেখার সুবিধা মাত্র, অফিস বা আদালতে জমা দেওয়ার মতো সার্টিফাইড কপি নয়।
- সব মৌজার সব জরিপের ম্যাপ বিক্রির জন্য নেই। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সিএস, আরএস আর বিএস ম্যাপের কোনগুলো কেনা যায়, তার তালিকা দেওয়া আছে।
- খুঁজে না পেলে মৌজার নাম, জেএল নম্বর আর জরিপের নাম নিয়ে ১৬১২২ নম্বরে বা উপজেলা ভূমি অফিসে খোঁজ নিন।
- শুধু ম্যাপ দেখে নিজে সীমানা ঠিক করবেন না। মাঠে মাপজোখের জন্য অভিজ্ঞ সার্ভেয়ার আর একই জরিপের ম্যাপ ও খতিয়ান দরকার।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ম্যাপে আমার জমির মালিকের নাম নেই কেন?
আমার দাগ কোন শিটে, বুঝব কীভাবে?
ম্যাপ হাতে পেতে কত দিন লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।