
সংক্ষেপে
দাগ নাম্বার দিয়ে জমির মালিকের নাম বের করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি রেকর্ড সেবার সাইটে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা আর জরিপ (সিএস, এসএ, আরএস বা বিএস) বেছে নিন, তারপর অধিকতর অনুসন্ধানে দাগ নম্বর লিখুন। ফলাফলে যে খতিয়ানগুলোতে সেই দাগ আছে, সেগুলো মালিকের নাম আর জমির পরিমাণসহ দেখায়।
দাগ নম্বর নিজে মালিকের নাম বলে না, নাম থাকে খতিয়ানে। আর একই দাগ এক জরিপে এক নম্বর, অন্য জরিপে আরেক নম্বর হতে পারে। তাই কোন জরিপের দাগ খুঁজছেন, সেটা আগে ঠিক করাই আসল কাজ।
মৌজা, জরিপ আর দাগ বা খতিয়ান নম্বর দিয়ে খতিয়ান খোঁজা ও কপি অর্ডারের সরকারি সাইট।
এই লেখায়
১. দাগ নাম্বার কি, কোথায় লেখা থাকে
দাগ নম্বর হলো মৌজার নকশায় প্রতিটি খণ্ড জমিকে আলাদা করে চেনার নম্বর। জরিপের খানাপুরী স্তরে আমিন দল নকশায় আঁকা প্রতিটি জমিতে গিয়ে এই নম্বর দেয়, তারপর মালিকের নাম আর দখলের তথ্য খতিয়ানে লেখে। মৌজা, খতিয়ান আর দাগ, এই তিনটি জানলেই একটি জমি নির্দিষ্টভাবে চেনা যায়।
- দলিলের তফসিলে: মৌজার নাম, জেএল নম্বর, খতিয়ান নম্বর আর দাগ নম্বর লেখা থাকে। কোন জরিপের দাগ লেখা, তফসিলেই মিলিয়ে নিন।
- খতিয়ানে: প্রতিটি খতিয়ানে মালিকের নামের সঙ্গে দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি আর পরিমাণের ঘর থাকে।
- মৌজা ম্যাপে: নকশার প্রতিটি খণ্ডের ভেতরে দাগ নম্বর লেখা থাকে। পাশের জমির দাগ জানলে ম্যাপ থেকে নিজেরটা বের করা যায়।
২. দাগ নাম্বার দিয়ে জমির মালিকের নাম বের করার নিয়ম
- ১সাইটে খতিয়ান খোঁজার পাতায় যানভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবার সাইট খুলুন।
- ২এলাকা বেছে নিনবিভাগ, জেলা, উপজেলা আর মৌজা বেছে নিন। একই নামের মৌজা থাকলে জেএল নম্বর মিলিয়ে নিন।
- ৩জরিপ বেছে নিনদলিলে যে জরিপের দাগ লেখা, সেটিই বাছুন: সিএস, এসএ, আরএস, বিএস বা সিটি জরিপ। ভুল জরিপ বাছলে একই নম্বরে অন্য জমির তথ্য আসবে।
- ৪অধিকতর অনুসন্ধানে দাগ লিখুনখতিয়ান নম্বর জানা না থাকলে অধিকতর অনুসন্ধান খুলে দাগ নম্বর দিন। চাইলে মালিকের নাম দিয়েও খোঁজা যায়।
- ৫ফলাফল মিলিয়ে দেখুনতালিকায় খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম আর জমির পরিমাণ আসে। খতিয়ান খুলে মালিকের অংশ আর দাগে মোট জমি দেখে নিন। দরকার হলে অনলাইন বা সার্টিফায়েড কপি অর্ডার করুন।
খতিয়ান তোলার ফি, অনলাইন কপি আর সার্টিফায়েড কপির তফাত আমাদের অনলাইনে খতিয়ান খোঁজার গাইডে আছে। এখানে মূল কথা একটাই: দাগ দিয়ে খুঁজলে আপনি খতিয়ানে পৌঁছান, আর মালিকের নাম খতিয়ান থেকেই আসে।
৩. একটি দাগে একাধিক খতিয়ান কেন আসে
দাগ নম্বর দিয়ে খুঁজে অনেকে দেখেন দুই, তিন বা তার বেশি খতিয়ান চলে এসেছে। এটা ভুল নয়। একটি দাগের জমি কয়েকজনের মালিকানায় থাকলে প্রত্যেকের অংশ আলাদা খতিয়ানে লেখা হয়। আবার একটি খতিয়ানে কয়েকটি দাগও থাকতে পারে।
ধরুন ১২৫ নম্বর দাগে মোট ৫০ শতক জমি। খুঁজে তিনটি খতিয়ান এল: একটিতে করিম সাহেবের নামে ২০ শতক, আরেকটিতে তাঁর দুই ভাইয়ের নামে ১৫ শতক করে। তিনটি যোগ করলে দাগের ৫০ শতক মিলে যায়। যোগফল না মিললে বুঝবেন কোনো খতিয়ান বাদ পড়েছে বা রেকর্ডে গরমিল আছে, তখন ভূমি অফিসে খোঁজ নিন।
| যা দেখছেন | এর মানে | যা করবেন |
|---|---|---|
| এক দাগে কয়েকটি খতিয়ান | দাগের জমি কয়েকজন মালিকের মধ্যে ভাগ | প্রতিটি খতিয়ানে মালিকের অংশ আর পরিমাণ যোগ করে দাগের মোট জমির সঙ্গে মেলান |
| দাগ খুঁজে কিছুই আসছে না | জরিপ বা মৌজা ভুল, অথবা সেই মৌজার রেকর্ড এখনো অনলাইনে নেই | দলিলের জরিপ আর জেএল নম্বর মিলিয়ে আবার খুঁজুন, না হলে ভূমি অফিস বা রেকর্ড রুমে যান |
| নাম আছে কিন্তু বিক্রেতার নয় | রেকর্ড পুরোনো মালিকের নামে, পরে হস্তান্তর হয়েছে | নামজারি খতিয়ান আর দলিলের ধারাবাহিকতা দেখুন |
৪. সাবেক দাগ থেকে হাল দাগ মেলাবেন যেভাবে
প্রতিটি জরিপে মৌজার নকশা নতুন করে আঁকা হয়, তাই দাগ নম্বরও নতুন করে দেওয়া হয়। আপনার বাবার আমলের আরএস দলিলে যে দাগ, বিএস জরিপে সেই জমির দাগ আলাদা হতে পারে। পুরোনো দাগকে সাবেক দাগ আর নতুনটিকে হাল দাগ বলা হয়।
- দুই জরিপের মৌজা ম্যাপ নিন। পাশাপাশি রেখে রাস্তা, খাল বা পুকুরের মতো স্থায়ী চিহ্ন ধরে জমির অবস্থান মেলান।
- নতুন জরিপের খতিয়ানে একই মালিক বা তাঁর ওয়ারিশদের নাম খুঁজুন। নাম মিললে সেই খতিয়ানের দাগগুলো আপনার জমির সম্ভাব্য হাল দাগ।
- নিশ্চিত হতে ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে দুই রেকর্ড নিয়ে যান। জরিপ চলমান হলে জরিপ ক্যাম্প বা উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে খোঁজ নিন।
মৌজা ম্যাপ অনলাইনে দেখা ও সার্টিফায়েড কপি অর্ডারের নিয়ম আলাদা গাইডে আছে। দাগ মেলানোর কাজে দুই জরিপের ম্যাপই লাগে।
৫. খতিয়ানে নাম পেলেই কি জমি তাঁর
খতিয়ান জমির স্বত্বের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, তবে সেটি কোন সময়ের রেকর্ড তা দেখতে হবে। জরিপ বা নামজারির পর জমি বিক্রি হলে খতিয়ানে পুরোনো মালিকের নামই থেকে যেতে পারে। জমি কেনার আগে তাই শুধু দাগ দিয়ে মালিকের নাম দেখে থেমে যাবেন না।
উত্তরাধিকারের জমিতে এটা বেশি দেখা যায়। খতিয়ানে হয়তো দাদার নাম, অথচ তিনি মারা গেছেন বহু বছর আগে আর জমি এখন কয়েকজন ওয়ারিশের। এমন জমি কিনতে চাইলে ওয়ারিশ সনদ আর ওয়ারিশদের নামে নামজারি হয়েছে কি না দেখে নিন।
নাম পাওয়ার পর যা মেলাবেন
খতিয়ানে ভুল বা মালিকানা নিয়ে বিরোধ পেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে বা একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
দাগ নাম্বার দিয়ে কি খতিয়ান বের করা যায়?
dag number diye kivabe khatian dekhbo?
দাগ নাম্বার দিয়ে কি দলিল বের করা যায়?
জমির দাগ নাম্বার কিভাবে বের করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।