ভূমি ও নামজারি

জমির খাজনা কত টাকা শতক: হার, মওকুফ আর বকেয়ার জরিমানা

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ভূমি সেবা হেল্পলাইন ১৬১২২mutation.land.gov.bd
জমির খাজনা কত টাকা শতক: হার, মওকুফ আর বকেয়ার জরিমানা

সংক্ষেপে

জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন করের হার ঠিক করে সরকার, গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে, এলাকা আর জমির ব্যবহার অনুযায়ী। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০১৫ সালের প্রজ্ঞাপনে সর্বনিম্ন হার শতকপ্রতি বছরে ১০ টাকা। কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের মোট কৃষিজমি ২৫ বিঘা বা ৮.২৫ একর পর্যন্ত হলে কর মওকুফ, তবে মওকুফ দাখিলার জন্য বছরে ১০ টাকা দিতে হয়।

আপনার নিজের জমির ঠিক অঙ্ক দেখা যায় ldtax.gov.bd-তে খতিয়ান যুক্ত করে অনুমোদন পাওয়ার পর। টানা তিন বছর বকেয়া রাখলে প্রথম থেকে তৃতীয় বছর পর্যন্ত বছরে ৬.২৫ শতাংশ হারে জরিমানাসহ দিতে হয়।

অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর

খতিয়ান যুক্ত করলে আপনার হোল্ডিংয়ের দাবি, বকেয়া আর জরিমানা দেখায়।

ldtax খুলুন
এই লেখায়
  1. জমির খাজনা কত টাকা শতক, কে ঠিক করে
  2. কৃষিজমিতে খাজনা লাগে কি না
  3. অকৃষি জমি: বাণিজ্যিক, শিল্প আর আবাসিক
  4. হিসাবের কয়েকটি নিয়ম, যা অঙ্ক বদলে দেয়
  5. বকেয়া হলে জরিমানা কত
  6. নিজের জমির খাজনার অঙ্ক দেখবেন যেভাবে
  7. অনেকে যা জানতে চান

১. জমির খাজনা কত টাকা শতক, কে ঠিক করে

ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কৃষি ও অকৃষি জমির করের হার, সীমা আর শর্ত সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে ঠিক করে। অকৃষি জমির হার ঠিক হয় জমির মান আর ব্যবহার দেখে, দেশের জমিকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করে। তাই সারা দেশে একটি হার নেই, ঢাকার বাণিজ্যিক জমি আর গ্রামের বসতভিটার খাজনা আলাদা।

ভূমি মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ৩০ জুনের প্রজ্ঞাপনে এলাকা ও ব্যবহারভিত্তিক প্রতি শতক জমির বার্ষিক করের হার পুনর্নির্ধারণ করে। ২০১৯ সালের ৮ আগস্টের এক চিঠিতে মন্ত্রণালয় মনে করিয়ে দিয়েছে, ওই প্রজ্ঞাপনে সর্বনিম্ন হার প্রতি শতক ১০ টাকা। কোনো কোনো ভূমি অফিসে ১৫ টাকা নিয়ে ২ টাকার রশিদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় চিঠিতে নির্ধারিত হারেই কর নিয়ে যথাযথ দাখিলা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

২. কৃষিজমিতে খাজনা লাগে কি না

  • কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি বা পরিবারের মোট কৃষিজমি ৮.২৫ একর বা ২৫ বিঘা পর্যন্ত হলে ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ।
  • আখ ও লবণ চাষের জমি আর কৃষকের পুকুরও এই মওকুফের মধ্যে পড়ে, তবে বাণিজ্যিক মাছ চাষের পুকুর পড়ে না।
  • মোট কৃষিজমি ২৫ বিঘার বেশি হলে পুরো কৃষিজমির কর দিতে হয়, শুধু বাড়তি অংশের নয়।
  • কৃষিজমি গ্রামে হোক বা পৌর এলাকায়, হার আর শর্ত একই।
  • মওকুফ থাকলেও মওকুফ দাখিলার জন্য বছরে ১০ টাকা আদায়ের নির্দেশনা আছে। দাখিলা জমির মালিকানার প্রমাণ হিসেবে নামজারি আর কেনাবেচায় লাগে।

৩. অকৃষি জমি: বাণিজ্যিক, শিল্প আর আবাসিক

অকৃষি জমিকে ব্যবহার অনুযায়ী তিন ভাগে দেখা হয়: বাণিজ্যিক, শিল্প, আর আবাসিক ও অন্যান্য। আবাসিক ও অন্যান্যের মধ্যে পড়ে বসতবাড়ি, দাপ্তরিক ভবন, রাস্তা, মাঠ, আঙিনার মতো জমি, যা ব্যবসা বা শিল্পে ব্যবহার হয় না।

পরিস্থিতিকোন হারে কর
জমির কিছু অংশ দোকান বা ব্যবসায়, বাকিটা বসবাসেপুরো জমি বাণিজ্যিক বা শিল্প হিসেবে
বসতবাড়ির আঙিনায় ছোট কারখানাযে অংশে কারখানা, সেই অংশ ব্যবহার অনুযায়ী
খতিয়ান শিল্পের নামে না করে জমিতে কারখানাশিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে
কারখানার ভেতরের ফাঁকা জায়গা বা আবাসিক ভবনশিল্প প্রতিষ্ঠানের অংশ হিসেবে

সরকারি কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, ঈদগাহ, সর্বজনীন মন্দির, গির্জা আর খেলার মাঠ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আবেদনে শর্তসাপেক্ষে করমুক্ত হতে পারে। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক উপাসনালয়, আর ব্যবসায়িকভাবে চলা উপাসনালয় বা সমাধিক্ষেত্র এই ছাড় পায় না।

৪. হিসাবের কয়েকটি নিয়ম, যা অঙ্ক বদলে দেয়

  • কোনো দাগে জমি শতকের ভগ্নাংশ হলে পরের পূর্ণ শতক ধরে কর হয়। যেমন ১.৪ শতক জমির কর ২ শতকের হিসাবে। অর্থাৎ কমপক্ষে এক শতকের কর দিতে হয়।
  • মোট দাবি বা জরিমানায় টাকার ভগ্নাংশ থাকলে পরের পূর্ণ টাকা ধরা হয়।
  • একই মৌজায় একাধিক খতিয়ানে জমি থাকলে সব একটি জমাবন্দিতে একত্র করে কর ঠিক হয়।
  • জমাবন্দিতে মালিকের মোবাইল নম্বর আর জাতীয় পরিচয়পত্র যুক্ত করা আইনে বাধ্যতামূলক।
  • করের বছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন। ৩০ জুনের মধ্যে দিলে জরিমানা নেই। চাইলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কর অগ্রিম দেওয়া যায়।

৫. বকেয়া হলে জরিমানা কত

কোনো বছরের কর ৩০ জুনের মধ্যে না দিলে তা বকেয়া হয়। টানা তিন বছর বকেয়া রাখলে প্রথম বছর থেকে তৃতীয় বছর পর্যন্ত বকেয়ার ওপর বছরে ৬.২৫ শতাংশ হারে জরিমানাসহ আদায় হয়। তৃতীয় বছর শেষে সরকারি দাবি আদায় আইন, ১৯১৩ অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলা করে আদায় করা যায়, এখন ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতেও।

খাজনার দাবি কখনো তামাদি হয় না

আইনে বলা আছে, ভূমি উন্নয়ন করের দাবি কখনো তামাদি হবে না। পুরোনো বকেয়া থেকেই যায়, তাই যত আগে দেবেন, জরিমানা তত কম। মামলা চলার সময় জরিমানাসহ বকেয়া দিলে মামলা প্রত্যাহার করতে হয়।

৬. নিজের জমির খাজনার অঙ্ক দেখবেন যেভাবে

  • ১
    ldtax-এ নিবন্ধন করুনldtax.gov.bd-তে নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন করুন। নিবন্ধনের কোনো সময়সীমা নেই, যেকোনো সময় করা যায়।
  • ২
    খতিয়ান যুক্ত করুনপ্রোফাইলে আপনার খতিয়ান বা হোল্ডিংয়ের তথ্য যুক্ত করে আবেদন দিন। ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিস অনুমোদন দিলে দাবি দেখা যায়।
  • ৩
    দাবি আর বকেয়া মিলিয়ে নিনজমির পরিমাণ, শ্রেণি আর বছরভিত্তিক দাবি ঠিক আছে কি না দেখুন। বাণিজ্যিক না হয়েও বাণিজ্যিক দেখালে ভূমি অফিসে জানান।
  • ৪
    অনলাইনে পরিশোধ করে দাখিলা নিনঅনলাইন পেমেন্টে কর দিয়ে দাখিলা নামিয়ে রাখুন। প্রশ্ন থাকলে ভূমি সেবা হটলাইন ১৬১২২-এ ফোন করুন।

৭. অনেকে যা জানতে চান

জমির খাজনা কত টাকা শতক?
হার এলাকা আর জমির ব্যবহার অনুযায়ী আলাদা, সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে ঠিক করে। ২০১৫ সালের প্রজ্ঞাপনে সর্বনিম্ন হার শতকপ্রতি বছরে ১০ টাকা। নিজের জমির ঠিক অঙ্ক ldtax.gov.bd-তে খতিয়ান যুক্ত করলে দেখা যায়।
২৫ বিঘার কম কৃষিজমিতে কি কিছুই দিতে হয় না?
কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের মোট কৃষিজমি ২৫ বিঘা পর্যন্ত হলে কর মওকুফ। তবে মওকুফ দাখিলার জন্য বছরে ১০ টাকা দেওয়ার নির্দেশনা আছে।
কয়েক বছরের খাজনা বাকি থাকলে কী হবে?
টানা তিন বছর বকেয়া হলে প্রথম থেকে তৃতীয় বছর পর্যন্ত বছরে ৬.২৫ শতাংশ জরিমানা যোগ হয়, এরপর সার্টিফিকেট মামলা হতে পারে। দাবি কখনো তামাদি হয় না।
অগ্রিম কত বছরের খাজনা দেওয়া যায়?
চলতি ও বকেয়া করের সঙ্গে বা পরে সর্বোচ্চ তিন বছরের কর অগ্রিম দেওয়া যায়।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
ভূমি সেবা

DCR ফি দেওয়ার পরও খতিয়ান প্রিন্ট না এলে যা দেখবেন

ই-নামজারির DCR ফি দেওয়ার পর খতিয়ান প্রিন্ট না এলে নতুন আবেদনের আগে পেমেন্ট স্ট্যাটাস, চালান আর আবেদন নম্বর কীভাবে মিলিয়ে দেখবেন।
ভূমি সেবা

ই-নামজারি শুনানি ও নামঞ্জুর: কোন কাগজ লাগবে

ই-নামজারির শুনানির নোটিশ এলে বা আবেদন Rejected দেখালে কারণটা কোথায় পড়বেন, কোন দলিল ও খতিয়ান গুছিয়ে রাখবেন, আর আবার আবেদনের আগে কী ঠিক করবেন।

অনেকে খোঁজেন