
সংক্ষেপে
ডিসিআর হারিয়ে গেলে প্রথমে দেখুন নামজারিটা কবে, কীভাবে হয়েছিল। অনলাইনে (ই-নামজারি) হয়ে থাকলে চিন্তা কম: mutation.land.gov.bd-এর আবেদন ট্র্যাকিংয়ে বিভাগ, আবেদন নম্বর আর NID নম্বর দিলে নামজারি খতিয়ান আর কিউআর কোডযুক্ত DCR আবার প্রিন্ট করা যায়। ১১০০ টাকার DCR ফি একবার দিলেই হয়, আবার দিতে হয় না।
অনেক বছর আগে হাতে লেখা DCR পেয়ে থাকলে সেটি অনলাইনে নেই। তখন নামজারি কেস নম্বর আর খতিয়ান নম্বর নিয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে যোগাযোগ করুন। নামজারি খতিয়ানের কপি অবশ্য ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা থেকেও তোলা যায়।
আবেদন নম্বর আর NID দিয়ে নামজারি খতিয়ান ও DCR আবার প্রিন্ট করুন।
এই লেখায়
১. ডিসিআর কী, আর হারালে আসলে কী হারায়
DCR মানে Duplicate Carbon Receipt। নামজারি মঞ্জুর হওয়ার পর ১১০০ টাকা ফি জমা দিলে এই রসিদ পাওয়া যায়। এর সঙ্গে আসে আপনার নামে নতুন খতিয়ান, যাকে লোকে নামজারি খতিয়ান বা খারিজ খতিয়ান বলে। জমি বিক্রি, খাজনার হোল্ডিং খোলা বা ব্যাংক ঋণে সাধারণত এই দুটি কাগজই চাওয়া হয়।
ভালো খবর হলো, কাগজ হারালেও নামজারি বাতিল হয় না। রেকর্ড থাকে ভূমি অফিসে আর অনলাইন হলে সার্ভারে। আপনাকে শুধু একটি নতুন কপি জোগাড় করতে হবে। কোন পথে যাবেন, তা নির্ভর করে DCR-টি অনলাইনের না হাতে লেখা তার ওপর।
| আপনার DCR কেমন | কোথা থেকে নতুন কপি | বাড়তি সরকারি ফি |
|---|---|---|
| কিউআর কোডযুক্ত, অনলাইনে ফি দিয়ে পাওয়া | mutation.land.gov.bd-এর আবেদন ট্র্যাকিং | লাগে না, DCR ফি আগেই দেওয়া |
| অফিস থেকে হাতে লেখা পুরোনো DCR | যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি হয়েছিল | অফিস যে কপি দেবে, তার নির্ধারিত ফি |
| শুধু নামজারি খতিয়ান দরকার | ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবায় নামজারি খতিয়ান খুঁজে | অনলাইন বা সার্টিফাইড কপির ফি |
২. অনলাইনের DCR আর নামজারি খতিয়ান ডাউনলোড করার নিয়ম
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মিউটেশন নির্দেশিকা বলছে, DCR ফি জমা হলে আবেদন ট্র্যাকিং করে খতিয়ান প্রিন্ট আর DCR প্রিন্ট কপি পাওয়া যায়। একই পথে পরে যতবার দরকার, ততবার নামানো যায়।
- ১মিউটেশন সিস্টেম খুলুনmutation.land.gov.bd-তে ঢুকে প্রথম পাতার 'আবেদন ট্র্যাকিং' অংশে যান।
- ২তিনটি তথ্য দিনবিভাগ বেছে নিন, তারপর আবেদন নম্বর আর আবেদনকারীর NID নম্বর লিখে খুঁজুন।
- ৩অবস্থা মিলিয়ে নিনআবেদনটি মঞ্জুর আর DCR ফি পরিশোধিত দেখালে খতিয়ান আর DCR প্রিন্টের অপশন আসে।
- ৪PDF রেখে দিনদুটিই প্রিন্ট করুন, আর PDF ফোন ও ইমেইলে রেখে দিন। পরের বার হারালে আর খুঁজতে হবে না।
একটা উদাহরণ ধরা যাক। রহিম সাহেব ২০২৩ সালে ই-নামজারি করেছিলেন, ঘর বদলের সময় ফাইলটা হারিয়ে গেছে। এখন জমি বিক্রির জন্য ক্রেতা DCR দেখতে চাইছেন। তাঁর কাছে আবেদনের এসএমএস আছে। ট্র্যাকিংয়ে বিভাগ ঢাকা, আবেদন নম্বর আর নিজের NID দিলেই খতিয়ান আর DCR আবার প্রিন্ট হয়ে গেল। পুরো কাজে দশ মিনিটও লাগার কথা নয়।
ট্র্যাকিংয়ে আবেদন খুঁজে না পেলে আগে দেখুন বিভাগ ঠিক বেছেছেন কি না, আর NID নম্বরটি সেই আবেদনকারীর কি না যাঁর নাম আবেদনে আছে। একাধিক গ্রহীতা থাকলে যেকোনো একজনের NID দিয়ে চেষ্টা করুন। অবস্থা মঞ্জুর দেখালেও প্রিন্টের অপশন না এলে বুঝবেন DCR ফি এখনো জমা হয়নি।
মিউটেশন নির্দেশিকা অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২ নভেম্বর ২০২১ তারিখের নির্দেশনায় কিউআর কোডযুক্ত অনলাইন DCR হাতে লেখা DCR-এর সমান, আইনগতভাবে বৈধ ও সব ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। তাই নতুন প্রিন্টের জন্য অফিসে যাওয়ার দরকার নেই।
৩. নামজারি কেস নাম্বার বা আবেদন নম্বর মনে নেই
ট্র্যাকিংয়ে আবেদন নম্বর ছাড়া এগোনো যায় না। তাই আগে নম্বরটা খুঁজে বের করুন। আবেদনের সময় যে মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন, তাতে শুনানি, মঞ্জুর আর DCR ফির এসএমএস যায়। পুরোনো এসএমএস প্রায়ই সবচেয়ে সহজ সূত্র।
যেখানে নম্বর পেতে পারেন
কোনোটিতেই না পেলে ভূমি সেবার কল সেন্টার ১৬১২২-এ ফোন করুন, অথবা NID, মৌজার নাম, খতিয়ান ও দাগ নম্বর নিয়ে উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিসে যান। মিউটেশন নির্দেশিকাও নামজারির তথ্যের জন্য ১৬১২২ আর ভূমিসেবার সমস্যা জানাতে hotline.land.gov.bd ব্যবহার করতে বলেছে।
৪. হাতে লেখা পুরোনো DCR বা খারিজ খতিয়ান হারিয়ে গেলে
অনলাইন ব্যবস্থার আগে যাঁদের নামজারি হয়েছে, তাঁদের DCR হাতে লেখা। এর তথ্য ট্র্যাকিংয়ে আসবে না। এ ক্ষেত্রে ভরসা ভূমি অফিসের নথি।
- ১তথ্য গুছিয়ে নিননামজারি কেস নম্বর ও সাল, মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর, আর আপনার NID। পুরোনো দাখিলা থাকলে সেটিও নিন।
- ২থানায় জিডি করে রাখুনমূল কাগজ অন্য কারও হাতে গিয়ে অপব্যবহার হতে পারে। হারানোর তারিখ আর কাগজের বিবরণ দিয়ে জিডি করে কপি রাখা নিরাপদ।
- ৩এসি ল্যান্ড অফিসে যোগাযোগযে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি হয়েছিল, সেখানে লিখিতভাবে নথির কপি চান। কোন কাগজ আর কত ফি লাগবে, অফিসই জানাবে।
- ৪খতিয়ানের কপি আলাদা করে তুলুননামজারি খতিয়ান অনলাইনে উঠে থাকলে ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবায় 'নামজারি খতিয়ান' বেছে খুঁজে অনলাইন বা সার্টিফাইড কপি নেওয়া যায়।
DCR তৈরি হয় শুধু ভূমি অফিস বা মিউটেশন সিস্টেম থেকে। কেউ টাকা নিয়ে বাইরে থেকে DCR বানিয়ে দেওয়ার কথা বললে সেটি জাল কাগজ হতে পারে, যা পরে জমি বিক্রি বা মামলায় আপনাকে বিপদে ফেলবে।
৫. DCR আর খতিয়ান আবার হারানো ঠেকাতে
- নামজারি শেষ হলেই খতিয়ান আর DCR-এর PDF দুই জায়গায় রাখুন, যেমন ফোন আর ইমেইল।
- আবেদন নম্বর একটি নোটে লিখে রাখুন, পরিবারের একজনকেও জানিয়ে রাখুন।
- DCR ফি ফেলে রাখবেন না। মিউটেশন সিস্টেমের তথ্যচিত্র অংশে বলা আছে, ফি না দিলে ৩০ দিন পর আবেদন নিজে থেকে আর্কাইভে চলে যায়।
- নামজারির পর নিজের নামে খাজনার হোল্ডিং খুলে নিয়মিত কর দিন। দাখিলায় খতিয়ান নম্বর থাকে, পরে কাজে লাগে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ডিসিআর হারিয়ে গেলে কি আবার ১১০০ টাকা দিতে হবে?
নামজারি খতিয়ান হারিয়ে গেলে করণীয় কী?
DCR-এর ফটোকপি দিয়ে কি কাজ চলবে?
নামজারি কেস নাম্বার বের করার নিয়ম কী?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।