
সংক্ষেপে
সরকারি কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত পান কৃষিনির্ভর ভূমিহীন পরিবার। কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা, ১৯৯৭ অনুযায়ী আবেদন যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে, যাচাই করে ইউএনওর নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি, অনুমোদন দেন জেলা প্রশাসক।
একর বা তার অংশপ্রতি সেলামি মাত্র ১ টাকা, বন্দোবস্তের মেয়াদ ৯৯ বছর। জমি বিক্রি বা হস্তান্তর করা যায় না, শুধু উত্তরাধিকারীদের নামে যায়।
খাস জমি, নামজারি আর ভূমিসেবার তথ্য ও অভিযোগের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
এই লেখায়
১. খাস জমি কী, আর কারা ভূমিহীন
নীতিমালা অনুযায়ী খাস জমি হলো রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ধারা ৭৬(১) অনুযায়ী সরকারের হাতে ন্যস্ত জমি। মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের জমি খাস, নদী থেকে জেগে ওঠা জমিও খাস। বন, গণপূর্ত বা সড়ক বিভাগের জমি এর মধ্যে পড়ে না।
১৯৯৮ সালের সংশোধন অনুযায়ী ভূমিহীন পরিবার মানে কৃষিনির্ভর পরিবার, যাদের পরিবারের কেউ অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিক বা বর্গাচাষি। তিন ধরনের পরিবার এর মধ্যে পড়ে।
- যাদের বসতবাড়ি আর কৃষিজমি কিছুই নেই।
- যাদের বসতবাড়ি আছে, কৃষিজমি নেই।
- যাদের বসতবাড়ি আর কৃষিজমি মিলিয়ে ০.৫০ একরের কম।
বন্দোবস্ত পাওয়ার পর পরিবারের নিজের জমিসহ মোট জমি ২ একরের বেশি হতে পারবে না। নীতিমালাটি তিন পার্বত্য জেলা বাদে বাকি ৬১ জেলায় প্রযোজ্য।
২. অগ্রাধিকার কারা পান
- দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার
- নদীভাঙনে সব জমি হারানো পরিবার
- সক্ষম ছেলেসহ বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারীর পরিবার
- কৃষিজমি আর বসতবাড়ি দুটোই নেই এমন পরিবার
- অধিগ্রহণে ভূমিহীন হয়ে পড়া পরিবার
- ১০ শতাংশ পর্যন্ত বসতবাড়ি আছে কিন্তু কৃষিজমি নেই এমন কৃষিনির্ভর পরিবার
যিনি আগে থেকে জমিটি বৈধভাবে দখলে রেখেছেন, একই এলাকার ভূমিহীন আর ভূমিহীন সমিতির সদস্যরাও বিবেচনায় এগিয়ে থাকেন। বাবার জমি আছে এমন ছেলে, সক্ষম পুরুষ সদস্য নেই এমন পরিবার, কিংবা নিজে কৃষি শ্রমিক নন এমন সক্ষম ছেলেহীন বিধবা এই নীতিমালায় যোগ্য নন।
৩. আবেদন থেকে কবুলিয়ত পর্যন্ত
- ১আবেদনের ঘোষণা দেখুনজেলা প্রশাসক মৌজাভিত্তিক সময়সূচি ঠিক করেন। মাইকিং, ঢোল শহরত আর উপজেলা, ইউনিয়ন, তহশিল ও থানার নোটিশ বোর্ডে ঘোষণা দেওয়া হয়, আবেদনের জন্য অন্তত এক মাস সময় থাকে।
- ২নির্ধারিত ফরমে আবেদননীতিমালার সংযোজনী-৬ ফরম উপজেলা থেকে পাওয়া যায়, দাম বড়জোর ১ টাকা। সব তথ্য দিয়ে হাতে লেখা আবেদনও চলে। আবেদন জমা দিন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে।
- ৩স্বামী-স্ত্রীর যুগল ছবিআবেদনের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে তোলা ছবি লাগে। ছবি উন্মুক্ত সভায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা সদস্যের শনাক্তকরণে ইউএনও সত্যায়ন করেন।
- ৪উপজেলা কমিটির যাচাইইউএনও সভাপতি, এসি ল্যান্ড সদস্যসচিব। কমিটি অগ্রাধিকার তালিকা করে, বাছাই আর বাদ পড়াদের তালিকা ইউএনও অফিসের নোটিশ বোর্ডে টানানো হয়।
- ৫জেলা প্রশাসকের অনুমোদনঅনুমোদনের পর ১ টাকা সেলামি আর চলতি বছরের খাজনা তহশিল অফিসে জমা দিতে হয়।
- ৬কবুলিয়ত রেজিস্ট্রি আর দখলচার কপি কবুলিয়ত দলিল জেলা প্রশাসক সই করেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তা রেজিস্ট্রি হয় কোনো রেজিস্ট্রেশন ফি ছাড়া। সঙ্গে পুনর্বাসন কার্ড দেওয়া হয়, তারপর সরেজমিনে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
- ৭নামজারিকবুলিয়ত পাওয়ার পর এসি ল্যান্ড নামজারি মামলা খোলেন, নীতিমালা অনুযায়ী তা ১৫ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
৪. আপত্তি, আপিল আর বাতিল
| বিষয় | কোথায় | সময় |
|---|---|---|
| অগ্রাধিকার তালিকায় আপত্তি | জেলা প্রশাসক | ১৫ দিন |
| উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল | জেলা প্রশাসক | ৭ দিন |
| জেলা কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে | জাতীয় কমিটি | ৩০ দিন |
নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, বন্দোবস্ত দেওয়া জমি কোনোভাবেই বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না, তবে উত্তরাধিকারীদের নামে নামজারি হবে। খতিয়ানের মন্তব্য কলামেও এটা লেখা থাকে। কেউ খাস জমি বিক্রি করতে চাইলে সেই দলিল ঝুঁকির।
বন্দোবস্তপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভূমিহীন নন প্রমাণ হলে বন্দোবস্ত বাতিল হয়। জেলা প্রশাসক নিজে বা অভিযোগ পেয়ে কারণ লিখে যেকোনো সময় বন্দোবস্ত বাতিল করতে পারেন। ভূমিসেবা নিয়ে তথ্য বা অভিযোগের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১৬১২২।
৫. অনেকে যা জানতে চান
খাস জমি বন্দোবস্ত পেতে কত টাকা লাগে?
খাস জমির তালিকা কোথায় দেখব?
বন্দোবস্তের জমি কি ছেলেমেয়েরা পাবে?
অকৃষি খাস জমিও কি একইভাবে পাওয়া যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।