
সংক্ষেপে
ডলার এনডোর্সমেন্ট মানে বিদেশ ভ্রমণের জন্য কেনা বৈদেশিক মুদ্রা পাসপোর্টে লিখে সিল-সই দেওয়া। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সার্কুলার অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ১৮,০০০ ডলার নিতে পারেন, যার মধ্যে প্রতি সফরে নগদ সর্বোচ্চ ৫,০০০ ডলার, বাকিটা কার্ডে।
১২ বছরের কম বয়সীরা পায় প্রাপ্তবয়স্কের অর্ধেক, অর্থাৎ ৯,০০০ ডলার। মানি চেঞ্জার থেকে কিনলে এনডোর্সমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা, ডলার যত বেশিই কিনুন।
ভ্রমণ কোটা নিয়ে সার্কুলারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার পাতায় প্রকাশ হয়।
এই লেখায়
১. ডলার এনডোর্সমেন্ট কি, কেন লাগে
থাইল্যান্ড বা দুবাই যাওয়ার টিকিট কাটা শেষ, এখন হাতে কিছু ডলার নিতে হবে আর কার্ডটা বিদেশে চালু করতে হবে। ব্যাংক বা মানি চেঞ্জার তখন পাসপোর্টের একটি পাতায় লিখে দেয় কত ডলার দিল, সঙ্গে সিল আর সই। এটাকেই ডলার এনডোর্সমেন্ট বলে।
এই লেখা থেকেই বোঝা যায় আপনি বছরের কোটার কতটা খরচ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নির্দেশিকা অনুযায়ী লাইসেন্সধারী মানি চেঞ্জার বিদেশগামী বাংলাদেশি বাসিন্দাদের বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার মধ্যে নোট, কয়েন বা ট্রাভেলার্স চেক বিক্রি করতে পারে। প্রতিটি বিক্রি পাসপোর্ট আর বিমান টিকিটে লিখে সিল ও সই দিতে হয়।
পাসপোর্টের এই পাতাগুলো ছিঁড়ে বা ঘষে ফেলবেন না। পরে আবার ডলার নিতে গেলে বা কোটার হিসাব মেলাতে গেলে এই লেখাই প্রমাণ।
২. ডলার এনডোর্সমেন্ট লিমিট ২০২৬: কত ডলার নেওয়া যায়
২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে সার্কুলার দিয়ে বার্ষিক ভ্রমণ কোটা ১২,০০০ থেকে বাড়িয়ে ১৮,০০০ ডলার করেছে, ইউএনবি এ খবর দিয়েছে। অনেক পুরোনো লেখায় এখনো ১২ হাজার ডলার লেখা আছে, সেটা এখন আর চলে না।
| কার জন্য | বছরে সর্বোচ্চ | নগদ |
|---|---|---|
| প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি | ১৮,০০০ ডলার বা সমপরিমাণ | প্রতি সফরে সর্বোচ্চ ৫,০০০ ডলার, বাকিটা কার্ডে |
| ১২ বছরের কম বয়সী | প্রাপ্তবয়স্কের ৫০%, অর্থাৎ ৯,০০০ ডলার | সার্কুলারের নগদ সীমা ব্যাংক থেকে জেনে নিন |
কোটা গোনা হয় পঞ্জিকাবর্ষ ধরে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর। ২০২১ সালের এফই সার্কুলার ৩০ অনুযায়ী এক সফর দুই বছরে পড়লে লেনদেন যে তারিখে হয়েছে সেই বছরের কোটা থেকে কাটা যায়, আর না-খরচ করা কোটা পরের বছরে যোগ হয় না।
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে গিয়ে জানুয়ারিতে ফিরলে বিষয়টা খেয়াল রাখুন। জানুয়ারিতে কার্ডে যা খরচ হবে, তা নতুন বছরের কোটায় পড়বে। সার্কুলার বলছে, সে ক্ষেত্রে পরের বছরের জন্য পরে এনডোর্সমেন্ট করিয়ে নিতে হয়, যদি না আগে থেকেই কয়েক বছরের এনডোর্সমেন্ট করানো থাকে। ব্যাংককে রিপোর্টও হয় লেনদেনের তারিখ ধরে।
৩. ডলার এনডোর্সমেন্ট করতে কি কি লাগে, কোথায় করবেন
সঙ্গে নিন
ব্যাংক ভেদে ভিসার কপি বা অন্য কাগজ চাওয়া হতে পারে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন কোনো একক কাগজের তালিকা পাইনি যা সব ব্যাংকের জন্য এক, তাই যে শাখায় যাবেন সেখানে আগে ফোন করে জেনে নিন।
- ১কোথায় করবেন ঠিক করুনঅনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের শাখা বা লাইসেন্সধারী মানি চেঞ্জার। শুধু কার্ডে খরচের কোটা চালু করতে হলে কার্ড যে ব্যাংকের, সেখানে।
- ২কোটার হিসাব দিনএ বছর আগে কোথাও ডলার নিয়ে থাকলে পাসপোর্টের সেই পাতা দেখান। কত বাকি আছে সেটা মিলিয়েই নতুন অঙ্ক ঠিক হবে।
- ৩পাসপোর্ট আর টিকিটে লেখাকত ডলার দেওয়া হলো, তারিখ, সিল আর অনুমোদিত কর্মকর্তার সই পাসপোর্টে ও টিকিটে লেখা হয়।
- ৪রসিদ বুঝে নিনমানি চেঞ্জার যে ফি নিল, তার লিখিত রসিদ দিতে বাধ্য। রসিদ আর পাসপোর্টের লেখা মিলিয়ে নিন।
৪. ডলার এনডোর্সমেন্ট ফি কত
বাসসের ৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর খবর অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার দিয়ে মানি চেঞ্জারের পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ঠিক করেছে। কত ডলার কিনছেন তাতে এই সীমা বদলায় না।
- মানি চেঞ্জারকে ফির তথ্য প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান জায়গায় টানিয়ে রাখতে হবে।
- প্রতিটি ফির জন্য গ্রাহককে লিখিত রসিদ দিতে হবে।
- সংগ্রহ করা সব ফির হিসাব রাখতে হবে।
ব্যাংকের এনডোর্সমেন্টে সার্ভিস চার্জ ব্যাংকভেদে আলাদা হতে পারে, এর কোনো একক সরকারি অঙ্ক আমরা পাইনি। ধরুন, সিলেটের মাহমুদা বেগম ডিসেম্বরে মালয়েশিয়া যাবেন। মানি চেঞ্জার থেকে নগদ ৫,০০০ ডলার কিনলে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি দেবেন, রসিদ নেবেন। বাকি খরচ কার্ডে করতে চাইলে কার্ডের ব্যাংকে কোটা এনডোর্স করাবেন, পুরো বছরে মোট ১৮,০০০ ডলারের মধ্যে।
৫. কয়েক বছরের এনডোর্সমেন্ট, বাড়তি খরচ আর যাঁদের জন্য নয়
এফই সার্কুলার ৩০ অনুযায়ী ব্যাংক আন্তর্জাতিক কার্ডের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ পর্যন্ত কয়েক বছরের কোটা একবারে এনডোর্স করতে পারে। তবে বছরে খরচ কোটা ছাড়াবে না, আর এক বছরের না-খরচ করা অংশ পরের বছরে যায় না। সাপ্লিমেন্টারি কার্ডধারী নিজের পাসপোর্টে নিজের কোটায় এই সুবিধা নিতে পারেন।
- চাকরি, অভিবাসন বা পড়াশোনার জন্য বিদেশ যাচ্ছেন, তাঁরা কয়েক বছরের এই এনডোর্সমেন্ট সুবিধা পান না।
- বিদেশে কার্ডে অনিবার্য কারণে কোটার বেশি খরচ হয়ে গেলে প্রথমে আপনার আরএফসিডি হিসাব থেকে সমন্বয় হয়।
- সেটা সম্ভব না হলে বাড়তি সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পরের বছরের কোটা থেকে সমন্বয় করা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমতি ছাড়াই।
- প্যাকেজ ট্যুরে গেলে ট্যুর অপারেটর হোটেল-যাতায়াতের জন্য জনপ্রতি বছরে ৩,০০০ ডলার পর্যন্ত পাঠাতে পারে, যা আপনার ব্যক্তিগত কোটার বাইরে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর এ খবর দিয়েছে।
এনডোর্সমেন্ট ছাড়া কেনা ডলারের কোনো হিসাব পাসপোর্টে থাকে না। লাইসেন্সধারী মানি চেঞ্জার বা ব্যাংক থেকে কিনুন, রসিদ আর পাসপোর্টের লেখা যাত্রা শেষ হওয়া পর্যন্ত রাখুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ডলার এনডোর্সমেন্ট লিমিট কত ২০২৬?
ডলার এনডোর্সমেন্ট ফি কত?
dollar endorsement korte ki ki lage?
চাকরি নিয়ে বিদেশ গেলে কি একই কোটা পাব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৭ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।